উপাচার্য বদলেই কি বদলাবে ববি?

১৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৮ AM , আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩০ PM
১৫ বছরে ৬ জন উপাচার্য দেখেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা

১৫ বছরে ৬ জন উপাচার্য দেখেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা © টিডিসি

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। এরমধ্যে আলোচনায় রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও (ববি)। দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৫ বছরে ৬ জন উপাচার্য দেখেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে তিনজনকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদ হারাতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একের পর এক উপাচার্য পরিবর্তন হলেও ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও একের পর এক উপাচার্যের রদবদল হলেও বিদ্যাপীঠটির আবাসন, অবকাঠামো, শিক্ষক, পরিবহন, খেলার মাঠ ও লাইব্রেরিতে আসন এবং বইয়ের সংকট রয়ে গেছে।

৬ষ্ঠ ও বর্তমান উপাচার্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। তিনি গত বছর ১৩ মে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন  ওসময়কালে এখনো পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে, বরং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানান সময় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাত্র খেলার মাঠের সংস্কার কাজ ৯ মাসেও সম্পূর্ণ হযনি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ ও আপগ্রেডেশন বোর্ড পর্যন্ত বসাতে ব্যর্থ হয়েছে তার প্রশাসন। ফলে প্রশাসনিক জটিলতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।  

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (প্রতিষ্ঠাকালীন) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ খান।  তিনি ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রকল্পের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ধাপের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ধাপের বাকি কাজগুলো শেষ করেন এবং বেশকিছু নতুন নতুন বিভাগ চালু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়াও তার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ইতিবাচক বেশকিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

২০১৯ সালের ৬ নভেম্বরের ৩য় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাবির অন্য আরেক অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। তার পূর্ণ মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বরং অবকাঠামো সংকট ও আবাসন সংকট চরম আকার ধারণ করে সেই সময় থেকে। ফলশ্রুতিতে এখনও পর্যন্ত নানা সংকটে জর্জরিত কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তত ১৫ জন ববিয়ানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির নানামুখী সংকট সমাধানের পথ সামনে এগিয়ে নিতে একজন দক্ষ ও চৌকস উপাচার্য চান শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সংকট, শ্রেণিকক্ষের সংকট, ল্যাব সংকট, শিক্ষক সংকটসহ সব ধরনের সংকট ও সেশনজট নিরসনে কাজ করবে এমন কাউকে দেখতে চান তারা। সর্বোপরি উপাচার্য শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাসেল হোসেন বলেন,"আমরা চাই শুধু মাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় যেন ভিসি নিয়োগ না দেওয়া হয়। একজন অ্যাকাডেমিশিয়ান, দক্ষ- যোগ্য, শিক্ষার্থীবান্ধব একজনকে ভিসি হিসেবে দেওয়া হোক, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক সমস্যা সমাধান করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবেন।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভব্রত মণ্ডল বলেন,"আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র অবকাঠামোগত ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এসব সংকট সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন এমন একজনকে ভিসি হিসেবে দেখতে চাচ্ছি।"

বাংলাদেশ এইচি দলের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীতে নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের আত্মহত্যা
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
শেরপুরে একই দিনে এক উপজেলা থেকে ৫ মরদেহ উদ্ধার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
যৌতুকের ৫০ লাখ টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন, এসিল্যান্ড…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে ডিএনএর মিল পাওয়া গেলো নবজাত…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬