‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ইবির বৈষম্যবিরোধী নেতার বিরুদ্ধে

২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১১ PM
সভা পণ্ড করতে অনুষ্ঠানস্থলের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বসার চেয়ার জোর করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে

সভা পণ্ড করতে অনুষ্ঠানস্থলের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বসার চেয়ার জোর করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে © টিডিস ফটো

গণভোট উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণা সভায় বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার বিরুদ্ধে। সভা পণ্ড করতে অনুষ্ঠানস্থলের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বসার চেয়ার জোর করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জুম্মার নামাজের সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত বাধন বিশ্বাস স্পর্শ ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব।

জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণার অভিযোগে অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ। এতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক বাকের মজুমদার, খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ অন্যান্যরা। এদিন সকাল থেকেই ইবির মেইন গেটের পাশে একটি ছোট প্যান্ডেল করা হয়৷ শেখপাড়ার আজিজ ডেকোরেটরের কর্মচারীরা ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন। জুম্মার নামাজের সময় সবাই নামাজ পড়তে গেলে এই ফাঁকে ৫০ টি চেয়ার ও বৈদ্যুতিক তার উধাও হয়ে যায়। বিকেল পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও মালামাল খুঁজে না পাওয়ায় সভা শুরু হতে হতে মাগরিব পেরিয়ে যায়। 

সন্ধ্যার দিকে আজিজ ডেকোরেটরের মালিক জানান, বাঁধন নামের একটি ছেলে ভ্যানে করে বিদ্যুতের তার ও চেয়ার নিয়ে গিয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের গেস্ট রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাদ্দাম হোসেন হলের গেস্ট রুম বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তবে জানালা দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কিছু চেয়ার ও বৈদ্যুতিক তার পড়ে আছে। 

ইবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট কে বিজয়ী করতে জনমত গঠনে আমরা এই আয়োজন করেছিলাম। প্রোগ্রাম শুরুর আগে দেখতে পাই সেখানে ৫০ টি চেয়ার এবং প্রোগ্রামের বৈদ্যুতিক তার সেখানে মিসিং, খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে জানতে পারি যে হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র সাদ্দাম হলের গেস্ট রুমে পাওয়া গেছে। এই কারণে আমাদের প্রোগ্রাম প্রায় ভেস্তে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এই যে প্রোগ্রাম থেকে চেয়ার ও বৈদ্যুতিক লাইন সরানো হয়েছে, এটা কী আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো ঘটনা নাকি চুরি, নাকি এই ঘটনা গুলো ঠিক কি কারণে ঘটানো হয়েছে তা অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্‌ঘাটন করতে হবে। 

জানতে চাইলে আজিজ ডেকোরেটরের মালিক আজিজুল হক বলেন, কয়েকজন ছেলে এসে আমার কাছে স্টেজ করে দিতে বলে, রাতে এসে জায়গাও দেখিয়ে দেয়। আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে আমার লোকজন কাজ করছিল। চেয়ার আর তার এনে রেখে ওরা সাউন্ড বক্স আনতে যায়। পরে আবার বাঁধন নাম করে ছেলেটা চেয়ার নিয়ে গেছে সেটা তো জানি না। আমি দোকান থেকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার চেয়ার নিয়ে গেলো কে? ওরা বলে চেনে না। আমি মোটরসাইকেল নিয়ে বিত্তিপাড়া পর্যন্ত যেয়ে খুঁজে না পেয়ে ফেরত আসার পর শুনলাম চেয়ার ভার্সিটির ভেতরে নিয়ে গেছে, সাদ্দাম হলে আছে। সাদ্দাম হলে যাওয়ার পরে দেখি চেয়ার গেস্ট রুমে রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, ওখানে যেয়ে আমি বাঁধন নামের ছেলেটার কাছে ফোন করলাম, তখন দেখি ফোন বন্ধ। পরে আমি একজনের কাছ থেকে সুইটের (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক) নাম্বার নিলাম। আসরের নামাজ পড়ে বাঁধনকে পেলাম, চেয়ারের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ও বললো, আপনারা স্টেজ করেছেন, কার কাছে পারমিশন নিয়েছেন? আমি বললাম, যারা প্রোগ্রাম করবে তারা সম্ভবত পারমিশন নিয়েছে। তখন বাঁধন বলে, না, পারমিশন নিয়ে স্টেজ করেনি বলেই আমি চেয়ার নিয়ে আসছি। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি ওকে বললাম, যারা স্টেজ করতে বলেছে তুমি তাদের সাথে কথা বলো, আমার মালটা ফেরত দাও। আমরা ডেকোরেশনের লোক, আমাদের যে ডাকে আমরা সেই জায়গায়ই যাই, তাকেই মাল দিই, তোমরা আমাদের মালগুলো ফেরত দাও। তখন ও বললো, না, মাল ফেরত দিতে পারব না। মাল নিতে হলে প্রক্টর স্যারকে নিয়ে আসতে হবে। প্রক্টর স্যার এসে মাল দিতে বললে মাল দেবো, তাছাড়া দেব না। সে আমার সাথে চড়াও হলে আমি আর মাল নিতে আসবো না, মাল দোকানে দিয়ে আসতে হবে বলে চলে এসেছি। 

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে  অভিযুক্ত সচিব বাধন বিশ্বাস স্পর্শকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। 

এ ব্যাপারে ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, আমাদের সাংগঠনিক নির্দেশনায় কেউ জিনিসপত্র নিয়ে আটকে রেখেছে, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই। এই ঘটনার ব্যাপারে আমি আগেপাছে কিছুই জানতাম না। আপনি ভুক্তভোগী ডেকোরেটর মালিক আর বাধনের সাথে কথা বলুন। তাদের মধ্যে কি হয়েছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। 

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, এই বিষয়ে আমি এখনো জানি না। বিষয়টা আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো। অনুমতি ছাড়া কেউ প্রোগ্রাম আয়োজন করলে তাদের জিনিসপত্র আটকে রাখার দায়িত্ব বা এখতিয়ার কোনো ছাত্র সংগঠনের আছে কিনা - প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ছাত্র সংগঠন যদি এধরণের কাজ করে থাকে তাহলে তা একদমই ঠিক করেনি।  

এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি বাধন নামের ওই শিক্ষার্থীকে ডেকেছিলাম, সে ক্ষমা চেয়েছে এবং তাকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দিয়েছি অতি দ্রুত এই জিনিসপত্র গুলো বের করে নিয়ে যেতে। আমি নিজেও ভিজিট করেছি গেস্টরুম, এখন সব ঠিকঠাক আছে। এরপরেও তার থেকে লিখিত নেওয়া হবে। আর এ ঘটনায় হলের গেটম্যানকে শোকজ করা হয়েছিল, সে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে এবারের মতো ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।  

জাবিপ্রবিতে সম্ভাবনার দীপ্তি থাকলেও বাধা নানা সংকট, ডিপিপির…
  • ১১ মে ২০২৬
অটোরিক্সায় এসে জামায়াত কর্মীকে গুলি করে পালাল দুর্বৃত্তরা
  • ১১ মে ২০২৬
মধ্যরাতে হাসনাতের পোস্ট ‘অফসাইড হার্টজ’, কী বোঝালেন?
  • ১১ মে ২০২৬
হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
  • ১১ মে ২০২৬
পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত নই
  • ১১ মে ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির ২য় পর্যায়ের আবেদন শু…
  • ১১ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9