বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে টানা আন্দোলনে ফলে সেশন জটের আশঙ্কা করছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষদের পক্ষ থেকে সমাজবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, প্রয়োজনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্লাস নিবো, তবুও আমার শিক্ষার্থীদের সেশনজট হতে দিবো না। যতদিন ভিসি আছে, ততদিন আমরাও আন্দোলনের মাঠে থাকবো। ভিসিও চলে যাবে, আমরাও আমাদের ক্লাস পরীক্ষায় ফিরে যাবো। শিক্ষক সমিতির অবস্থা ধর্মঘটকালীন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের পদত্যাগ চেয়ে সম্মিলিতভাবে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষার্থীরা। গত ২১ এপ্রিল উপাচার্য তৃতীয়বারের মত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি বর্জন করে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে। শবে বরাত ও সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা যথারীতি কর্মসূচি পালন করে।
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি পালন কর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে।
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম পরিষদের সদস্য শেখ সেলিমের নাতি নিহত রাইয়ান ও অন্যান্য নিহতদের স্মরণে দুপুর ১২টার দিকে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘আমাদের এখন একটাই দাবি,তা হলো উপাচার্যের পদত্যাগ। উপাচার্য যতদিন না পদত্যাগ করছেন আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব না। দরকার হলে আমরা লাগাতার কর্মসূচি পালন করবো।’
শিক্ষকদের মধ্যে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি সরদার কায়সার আহমেদ (আইন বিভাগ), শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোঃ আরিফ হোসেন (ইংরেজি বিভাগ), সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান (ইংরেজি বিভাগ), সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার (বাংলা বিভাগ), সহকারী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় বিশ্বাস (অর্থনীতি বিভাগ), সহকারী অধ্যাপক মো. ওহিদুর জামান (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), মো. ইলিয়াস মাহমুদ(ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ), সহকারী অধ্যাপক সরদার কায়সার আহমেদ (আইন বিভাগ), আলমগীর হোসেন (CSDMবিভাগ)সহ অন্যান্যরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লোকমান হোসেন জানান, শিক্ষার্থীরা প্রায় একমাস ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। গত ২১ এপ্রিল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য বলেছেন মাত্র ৫% শিক্ষার্থী আন্দোলন করেছে। আজকের এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি মাধ্যমে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমগ্র শিক্ষার্থী এই যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ রইল দ্রুতই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিবেন। এখন আমাদের একটাই দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ কিংবা পূর্ণকালীন ছুটি চাই।
প্রসঙ্গত, গত ২৬শে মার্চের চা-চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একইদিন এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের "রাজাকারের বাচ্চা" বলায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে এবং হল থেকে বেরিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তখন উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।পরে উপাচার্য এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে। ৬এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা সমঝোতা বৈঠক করলেও ফলপ্রসূ হয়নি তা। ১০ এপ্রিল উপাচার্য ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ১৫ দিন ছুটির আবেদন করে এবং তা মঞ্জুর হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এ ছুটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এমতাবস্থায় উপাচার্য পদত্যাগ কিংবা পূর্ণকালীন ছুটিতে না গেলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।