জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি ও একাধিক ভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। সোমবার রাজধানীর লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে তিনি এ কথা বলেন। কর্মসূচিটি আয়োজন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ, গ্রামীণফোনের সহায়তায় এতে যুক্ত হয় সারাদেশের নয় শতাধিক কলেজ।
উপাচার্য জানান, দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ করতে সিলেবাস সংস্কার, আইসিটি ও ইংরেজি বাধ্যতামূলক করা, এআই, ডেটা সায়েন্সে প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার ক্লাব, মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট ও সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে ৫০ হাজার ছাত্রীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সততা ও সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান। সেই চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে নিজেদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। আর ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, দেশে আট লাখেরও বেশি স্নাতক বেকার থাকার বাস্তবতায় শিক্ষাকে কর্মসংস্থানে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই যৌথ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শহীদদের স্মরণে শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে অতিথিরা “সাইবার সেফটি গেমস” উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান ও প্রফেসর ড. নূরুল ইসলাম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরিচালক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।