তিতুমীর কলেজের শহীদ বরকত মিলনায়তনে © টিডিসি
সরকারি তিতুমীর কলেজে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা ২০২৫’-এর অংশ হিসেবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কলেজের শহীদ বরকত মিলনায়তনে এই ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমেদ, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক এম এম আতিকুজ্জামানসহ কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমেদ জুলাইয়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, জন্মের পর থেকে দেখে এসেছি, জুলাই মাস ৩১ দিনের হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে দেখলাম, এই মাস যেন ৩৬ দিনের। আজকের দিনটিকে শুধু একটি অনুষ্ঠান বলা কঠিন। কারণ আজকের প্রদর্শনী আমাদের বেদনার অতলে ডুবিয়ে দেবে। যা আমরা দেখতে যাচ্ছি, তা আমাদের অনেকের চোখে অশ্রু এনে দেবে।
তিনি বলেন, একটি জাতির ইতিহাস তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই ইতিহাসে নতুন তথ্য যুক্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে সেই তথ্য যেন হয় আমাদের জীবন গঠনের অনুপ্রেরণা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির উন্নয়নের ভিত্তি। যাতে করে বিশ্ব-দরবারে বাংলাদেশ একটি উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এটাই আমার, এবং আমার পরবর্তী প্রজন্মের কামনা।
ড. ছদরুদ্দীন আরও বলেন, যারা অতীতে এ দেশ শাসন করেছে, তারা বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। তারা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করে আমাদের উন্নতির পথ রুদ্ধ করেছে এবং জনগণের জীবনকে করেছে দুর্বিষহ। আজকের প্রদর্শনীতে আমরা প্রত্যক্ষ করব কীভাবে দুই হাজার প্রাণ এবং ২৫ হাজার আহত ভাইয়ের রক্ত ও ত্যাগে নির্মিত হয়েছে এক বেদনার অধ্যায়।
তিনি বলেন, এই ‘৩৬ দিনের জুলাই’ আমাদের ইতিহাসের বিশেষ একটি দিন, কিন্তু এ রকম বেদনাদায়ক দিন যেন আর কখনও আমাদের জীবনে ফিরে না আসে এই দোয়া করি মহান আল্লাহর কাছে।
উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম বলেন, জুলাই আগস্ট আমাদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। আমরা যখন বাহিরে বের হই শহরের প্রত্যেকটি দেয়ালে, দেয়ালে আমাদের সন্তানদের গ্রাফিতি দেখতে পাই। সেই গ্রাফিতি দেখে আমরা জুলাইকে স্মরণ করি।