কুবির বঙ্গবন্ধু হল

তবুও ঝুঁকি নিয়ে চলছে সম্প্রসারণের কাজ

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:০৯ PM
এভাবে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন শ্রমিকরা

এভাবে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন শ্রমিকরা © টিডিসি ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশের কাজ চলাকালীন সময়ে একের পর এক দুর্ঘটনার পরও ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন শ্রমিকরা। এ কাজে শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী না দেওয়ায় এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে তারা কাজ করছেন বলে জানা যায়। ফলে যেকোন সময় ফের বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

নির্মানাধীন হলটিতে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা হেলমেট, সেফটি বেল্ট, বুটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে এসব সামগ্রী সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা না দেয়ায় মূলত তারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া প্রতিনিয়ত নির্মাণাধীন এ ভবনের নিচ দিয়ে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। ভবনের নির্মাণ কাজে চার তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চললেও ভবনের উপর থেকে চারপাশে সেফটি নেটের কোন ব্যবস্থা নেই। এতে করে শিক্ষার্থীরাও যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

এদিকে, গত ৩১ জানুয়ারি সারওয়ার হোসেন নামের এক শ্রমিক এই ভবনের কাজ করার সময় তিন তলা থেকে মাচা ভেঙ্গে নিচে পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে ৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর একই ভবনের কাজে করতে গিয়ে মুমিনুল নামের এক শ্রমিক চার তলা থেকে নিচে পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। একের পর এক দুর্ঘটার কারণে শ্রমিকদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. নূরুদ্দিন মোরশেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সচেতন না হলে আরও দুর্ঘটনা ঘটবে। ভবনের চারপাশে সেফটি নেটের ব্যবস্থা নেই। দুইটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ছোটখাটো আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।’

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী কেন শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্নে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেই দায়ী করছে প্রশাসন। কুবির নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল হাসান বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা বারবার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বসেছি। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা যেহেতু ঐ ভবনের নিচ দিয়ে যাতায়াত করে তাদেরও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। তাছাড়া উপাচার্য স্যারসহ আমরা তাদের নিয়ে বসেছিলাম। এরপরেও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষ মো: জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে রাস্তায় যাতায়াত করছে সেটি বন্ধের বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে অনেক আগেই বলেছি। কিন্তু সে কথা শুনছে না। শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসার জন্য বিকল্প রাস্তা আছে। কথা না শুনলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরকে বলা হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন,‘নিরাপত্তা সামগ্রী আছে। কিন্তু শ্রমিকরা সেগুলো পরে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এজন্য আমি বললেও তারা এগুলো ব্যবহার করছে না।’ সেফটি নেটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তায় কেউ আসা যাওয়া করার কথা নয়। আর সেফটি নেট অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য আমরা ব্যবহার করছিনা।’ এছাড়া ২-১ দিনের ভিতর ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাটি বন্ধ করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মানাধীন ভবনের নিচ দিয়ে যাতায়াত করলেও রাস্তা বন্ধ করা হচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নে কুবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে রাস্তায় যাতায়াত করছে সেটি বন্ধ করে দেয়া হবে। আমি এখনই আবার বলে দিচ্ছি।’

মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জেলা সভাপতিসহ নাগরিক ঐক্যের ২১৭ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কারিগরি ও মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালার ওপর মতামত দিল অর্থ বিভাগ
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২০০ শিক্ষার্থীকে হিজাব দিল ডাকসু
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩৮ হাজার কোটি টাকায় ত্রিশালে হচ্ছে অলিম্পিক কমপ্লেক্স
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬