যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
প্রায় দেড় বছর আগে ঘটে যাওয়া র্যাগিংয়ের ক্ষত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখনো রয়ে গেছে। মেইন হোস্টেলের তেতলা থেকে পড়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে মূল অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় বা হোস্টেলে নিয়মিতই আনাগোনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ ‘দোষীদের’ বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি; বরং জড়িতরা ‘ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ’র মাধ্যমে চাকরিতেও যোগদান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র্যাগিংয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি’।
গত সপ্তাহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি। তারা জানায়, র্যাগিংয়ে জড়িতদের পাঠদান চললেও তাদের পরীক্ষার ফলাফলের মার্কশিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে জড়িতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করলেও চাকরিতে সহজে যোগদান করতে পারবে না বলে জানায় তারা।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হোস্টেলের তেতলা থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার এক বছর পরে অ্যান্টি র্যাগিং স্কোয়াড ও অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চিহ্নিত ৩২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনায় জড়িত ৩২ জনের মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ধারায় পুলিশের মামলা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের জেলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি চলছে আলিপুর কোর্টে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণও। সম্প্রতি একটি মামলায় হাইকোর্ট ওই অভিযুক্তদের জামিন না দেওয়ার মত প্রকাশ করেছেন।
তবে র্যাগিংয়ের সঙ্গে আরও যেসব শিক্ষার্থী জড়িত রয়েছেন, তাদের কোনো শাস্তি দিতে পারেনি বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শোকজের চিঠি পাঠানোর পরে ইতোমধ্যে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ১৫ জন শিক্ষার্থী হাইকোর্টে গেলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ফলে হাইকোর্ট আপাতত ওই ১৫ জনের বিরুদ্ধে যাদবপুর কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। ফলে জড়িতরা হোস্টেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ চলাফেরা করছেন। এমনকি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছেন।
র্যাগিংয়ের অন্যতম অভিযুক্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ইন্টারভির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তখনই সিদ্ধান্ত হয় কোর্টের নির্দেশ মেনে অভিযুক্ত ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করা বা হোস্টেলে থাকতে দেওয়া হলেও কোর্টের নির্দেশ ছাড়া কাউকে পরীক্ষার মার্কশিট দেওয়া হবে না। আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) আলিপুর কোর্টে পকসো বিশেষ আদালতে ২০২৩ সালের আগস্টের র্যাগিংয়ে মৃত্যুর মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আনন্দ বাজার