ফাঁস নেয়া জবি ছাত্রীর শেষ ফেসবুক পোস্টে যা ছিল

১৬ মার্চ ২০২৪, ১২:২৯ AM , আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৪ PM
ফাইরুজ অবন্তিকা

ফাইরুজ অবন্তিকা © সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রী ফাইরুজ অবন্তিকা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা সদরের নিজ বাসায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করেন ফাইরুজ অবন্তিকা। আত্মহত্যার আগে নিজ ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট দেন তিনি। সেখানে আম্মান সিদ্দিকী নামে তার এক সহপাঠীকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমি যদি কখনো সুইসাইড করে মারা যাই তবে আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে আমার ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী, আর তার সহকারী হিসেবে তার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে সাপোর্টকারী জগন্নাথের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম। আম্মান যে আমাকে অফলাইন অনলাইনে থ্রেটের উপর রাখতো সে বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করে ও আমার লাভ হয় নাই। দ্বীন ইসলাম আমাকে নানান ভাবে ভয় দেখায় আম্মানের হয়ে যে আমাকে বহিষ্কার করা ওনার জন্য হাতের ময়লার মতো ব্যাপার।’ 

সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের বিষয়ে তিনি লিখেন, ‘আমি জানি এখানে কোনো জাস্টিস পাবো না। কারণ দ্বীন ইসলামের অনেক চামচা ওর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। এই লোককে আমি চিনতাম ও না। আম্মান আমাকে সেক্সুয়ালি এবিউজিভ কমেন্ট করায় আমি তার প্রতিবাদ করলে আমাকে দেখে নেয়ার জন্য দ্বীন ইসলামের শরণাপন্ন করায়। আর দ্বীন ইসলাম আমাকে তখন প্রক্টর অফিসে একা ডেকে নারীজাতীয় গালিগালাজ করে। সেটা অনেক আগের ঘটনা হলেও সে এখনো আমাকে নানাভাবে মানহানি করতেসে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন কথা বলে। আর এই লোক কুমিল্লার হয়ে কুমিল্লার ছাত্র কল্যাণের তার ছেলেমেয়ের বয়সী স্টুডেন্ট দের মাঝে কী পরিমাণ প্যাঁচ ইচ্ছা করে লাগায় সেটা কুমিল্লার কারো সৎসাহস থাকলে সে স্বীকার করবে।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আফসোস এই লোক নাকি ঢাবির খুব প্রমিনেন্ট ছাত্রনেতা ছিলো। একবার জেল খেটেও সে এখন জগন্নাথের প্রক্টর। সো ওর পলিটিকাল আর নষ্টামির হাত অনেক লম্বা না হলেও এতো কুকীর্তির পরও এভাবে বহাল তবিয়তো থাকে না এমন পোস্টে। কোথায় এই লোকের কাজ ছিল গার্ডিয়ান হওয়া আর সো কিনা শেষমেশ আমার জীবনটারেই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি দিলো না।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিমের কাছে অভিযোগ জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘আপনি এই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসেবে আপনার কাছে বিচার চাইলাম। আর আমি ফাঁসি দিয়ে মরতেসি। আমার উপর দিয়ে কী গেলে আমার মতো নিজেকে এতো ভালোবাসে যে মানুষ সে মানুষ এমন কাজ করতে পারে। আমি জানি এটা কোনো সলিউশন না কিন্তু আমাকে বাঁচতে দিতেসে না বিশ্বাস করেন। আমি ফাইটার মানুষ। আমি বাঁচতে চাইসিলাম! আর পোস্ট মর্টেম করে আমার পরিবারকে ঝামেলায় ফেলবেন না। এমনিতেই বাবা এক বছর হয় নাই মারা গেছেন আমার মা একা। ওনাকে বিব্রত করবেন না। এটা সুইসাইড না এটা মার্ডার। টেকনিক্যালি মার্ডার। আর আম্মান নামক আমার ক্লাসমেট ইভটিজার টা আমাকে এটাই বলছিল যে আমার জীবনের এমন অবস্থা করবে যাতে আমি মরা ছাড়া কোনো গতি না পাই। তাও আমি ফাইট করার চেষ্টা করসি। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সহ্য ক্ষমতার।’

রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল পাকিস্তান
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় কোকোর স্ত্রী
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়ে বিএনপির গোপন বৈঠক
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের যোগ্যতায় কড়াকড়ি, নির্দিষ্ট অভিজ্ঞ…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনে যে ভূমিকায় থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
পদ্মায় গোসলে নেমে নিখোঁজ মেরিনের শিক্ষার্থী
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬