ইবির সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী © টিডিসি ফটো
‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায় ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়’ রবীন্দ্রনাথের পংক্তির মতোই খুনসুটি, গান-আড্ডা আর আনন্দ-বেদনার পুরোনো স্মৃতি রোমন্থনে ব্যস্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিশ্বকবির অমর গানের আবাহনে উদ্বেলিত হয়ে বিভাগটির ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের সামনের চত্বর। বহুদিন পর পুরোনো বন্ধুকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন, আলাপচারিতা ও আড্ডায় মেতে ওঠেন অনেকে। বয়সকে ছাপিয়ে ক্যাম্পাসের প্রিয় জায়গাগুলোত ছবি তোলা, হইচই আর নেচে-গেয়ে বাঁধভাঙা জোয়ারে মেতে ওঠেন তারা। দিনভর আলাপচারিতা, আড্ডা আর পুরানো স্মৃতি রোমন্থন করে হারিয়ে যান ফেলে আসা স্বর্ণালী অতীতে।
গতকাল শুক্রবার পিঠা উৎসবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অর্থনীতি বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। আজ শনিবার বিভাগের সকলের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার
আলোচনা সভায় বিভাগের সভাপতি এবং প্রথম পুনর্মিলনী কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুইঁয়া ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষেদর ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানসহ বিভাগটির ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, আপনারা এ বিভাগের একটি অংশ। আপনাদের এলামনাই এসোসিয়েশনের মধ্য দিয়ে আপনাদের অনুজ-অগ্রজ ও সমবয়সীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পারিক সহযোগিতার মত কাজগুলো সম্পন্ন হবে। সবসময় সকল পর্যায়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখে কৃতজ্ঞ থাকবেন।
পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ পুলিশ, কেউ সমাজসেবা কর্মকর্তা, কেউ ব্যাংক কর্মকর্তা, কেউ শিক্ষক আবার কেউ ব্যবসায়ী।
আরও পড়ুন: কর্মকর্তা পরিষদের আন্দোলনে স্থবির পবিপ্রবি
বিভাগটির ২০০৭-০৮ সেশনের শিক্ষার্থী সহকারী অধ্যাপক বলেন, আমরা যখন ছাত্রী ছিলাম তখন এরকম সুযোগ পেতে চাইতাম তবে এরকম সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আজ ৩৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়েছে। অনেক স্মৃতিচার আর স্মৃতি কথায় প্রবীণ-নবীন শিক্ষার্থী মিলেমিশে একাকার। সকলকে একসঙ্গে পেয়ে খুব উচ্ছ্বসিত।
বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সোনিয়া বলেন, পুনর্মিলনী মাহেদ্রক্ষণে সকলকে একসঙ্গে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে ছাত্রজীবনে ফিরে এসেছি। এ ধারা অব্যাহত থাকুক।
নবীন শিক্ষার্থী নোমান বলেন, অগ্রজদের পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। তাদের সফলতা আর ব্যর্থতার গল্প আমাদের আগামী দিনের পাথেয় হবে।