কর্মক্ষেত্রের একঘেয়েমি দূর করতে পালন করা হয় অফিস চকলেট দিবস © সংগৃহীত
কাজের চাপ, একের পর এক মিটিং, বসের তাগাদা আর ই-মেইলের স্তূপ—অফিসের ব্যস্ততা অনেক সময়ই মানসিক চাপ তৈরি করে। তবে এক টুকরো চকলেট যদি কর্মব্যস্ত দিনের ক্লান্তি কিছুটা কমিয়ে দেয়, তাহলে মন্দ কী! সহকর্মীদের সঙ্গে চকলেট ভাগ করে নেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তা নিয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে ‘অফিস চকলেট ডে’।
দিবসটি পালনের ধারণাটি বেশ সহজ। প্রতিদিনের কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে সহকর্মীকে চকলেট উপহার দেওয়া কিংবা একসঙ্গে চকলেট খাওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মক্ষেত্রে আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করা যায়।
সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে চকলেট জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। তার আগে কর্মক্ষেত্রের একঘেয়েমি কাটাতে মানুষ কী করতেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকতেই পারে। হয়ত তখন ডেস্কের ড্রয়ারে লুকিয়ে চকলেট রাখার সুযোগ ছিল না!
অফিস চকলেট ডে পালনের অন্যতম সহজ উপায় হলো সহকর্মীদের মধ্যে চকলেট ভাগ করে নেওয়া। এক বাক্স চকলেট, কয়েকটি মাফিন কিংবা একটি কেক সহকর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও তৈরি হতে পারে আরও প্রাণবন্ত পরিবেশ।
যেসব সহকর্মীর সঙ্গে কাজের প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা কথা হয় না, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করারও সুযোগ এনে দেয় দিনটি। ছোট্ট একটি চকলেট উপহার হতে পারে কথোপকথন শুরুর উপলক্ষ, যা পেশাগত সম্পর্ককে আরও আন্তরিক করে তুলতে পারে। তবে চকলেট ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। কাউকে বাদ দিয়ে চকলেট বিতরণ করলে আনন্দের উদ্যোগটিই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
দুপুরের বিরতিতে সহকর্মীরা চাইলে ছোট পরিসরে চকলেট পার্টির আয়োজন করতে পারেন। সবাই নিজের পছন্দের চকলেট নিয়ে একসঙ্গে বসে গল্প করতে পারেন। ডার্ক চকলেট হোক কিংবা মিল্ক চকলেট—কাজের ফাঁকে এমন আয়োজন এনে দিতে পারে স্বস্তির মুহূর্ত। তবে সবকিছুরই পরিমিতি প্রয়োজন। চকলেট ডে উদ্যাপন করতে গিয়ে যেন কাজের ব্যাঘাত না ঘটে কিংবা ডেস্কে ফাইলের স্তূপ জমে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
দিনটির মূল বার্তা হলো, কর্মক্ষেত্রে চাপ থাকবে, সময়সীমা মেনে কাজও করতে হবে; তবে এর মধ্যেও আনন্দের জন্য কিছুটা সময় রাখা প্রয়োজন। চকলেট হয়তো অফিসের সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে না, কিন্তু এক টুকরো চকলেট সাধারণ একটি কর্মদিবসকে কিছুটা মিষ্টি করে তুলতে পারে।