বিশ্ব শিক্ষক দিবস
নানা বৈষম্যে ভুগছেন শিক্ষকরা © এআই
যে হাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমতার পৃথিবী গড়ে দেওয়ার দায়িত্ব, তাদের জীবনেই বৈষম্যে ভরা। কেউ বছরের পর বছর বেতন-ভাতা ও পদোন্নতির বৈষম্য নিয়ে অপেক্ষায়, কেউ কাঙ্ক্ষিত গ্রেডের দাবিতে আন্দোলনে, আবার কেউ ৪৩ বছর ধরে সরকারি স্বীকৃতি ও আর্থিক নিরাপত্তার আশায় দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষক দিবসে যখন বিশ্বজুড়ে শিক্ষকতার মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের হৃদয়ে এখনও জমে আছে বঞ্চনা, বৈষম্য ও দীর্ঘদিনের হতাশা।
আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো ও আইএলও ‘শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কিত সুপারিশমালা’ গ্রহণের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্যে শিক্ষকতা পেশাকে সুরক্ষা দেওয়া, এর মর্যাদা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে শিক্ষার বড় বিষয় হলো পর্যাপ্ত শিক্ষকের সংকট তো রয়েছেই, যারা আছেন, তাদের মধ্যে বড় একটি অংশই বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, গ্রেড ও চাকরির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈষম্যের মধ্যে রয়েছেন। বছরের পর বছর দাবি ও আন্দোলন হলেও অনেক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি শিক্ষকদের।
চার দশক ধরে চোখের জলে জীবন চলছে ইবতেদায়ী শিক্ষকদের
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্বীকৃতি, নীতিমালা সংশোধন ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সমস্যা সমাধানে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, সেটিও এখন থেমে আছে। ৪৩ বছর ধরে নানা বঞ্চনার মধ্যে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে এখন হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক ঐক্য ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মো. শামছুল আলম বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের সমস্যার এখনো কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের সমস্যা সমাধানে কোনো কাজ শুরু হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথম ধাপে সমস্যা নিরসনের যে কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেটিও এখন স্থগিত রয়েছে।
নীতিমালা সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটির কাজও শেষ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমাদের কোনো দাবির ক্ষেত্রেই কার্যকর কোনো কাজ শুরু হয়নি। সবকিছু স্থবির হয়ে আছে।
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে শামছুল আলম বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সঙ্গে একবার দেখা করেছিলেন। এরপর আর দেখা করার সুযোগ হয়নি। সচিবও আমাদের সঙ্গে দেখা করেন, কিন্তু আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় সময় দেন না। ফলে আমরা বুঝতে পারছি না, এভাবে আমাদের বিষয়টি আরও কতদিন ঝুলিয়ে রাখা হবে।
শিক্ষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষকরা অত্যন্ত কষ্টে আছেন। ৪৩ বছর ধরে আমরা চোখের জলে জীবন কাটাচ্ছি। এখনো একই অবস্থা। বরং হতাশা আরও বেড়েছে। সরকার আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়েও শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ১২৭ জন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর কাছে আমরা আবেদন করেছি। শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছি। এতজনের কাছে বিষয়টি জানানোর পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে শামছুল আলম বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সেমিনার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং কয়েকজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে আলোচনা করা হবে। এরপর আমরা সরকারের কাছে একটি ঘোষণা দেব। তারপরও যদি সরকার আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো গুরুত্ব না দেয়, তাহলে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ থাকবে না।
অর্থনৈতিক মুক্তি না থাকলে সামাজিক মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হয় না
প্রাথমিক শিক্ষকদের তিন দফা দাবি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং শাস্তির বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। শিক্ষক নেতাদের মতে, মেধাবীদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে শুধু সামাজিক মর্যাদা নয়, নিশ্চিত করতে হবে আর্থিক নিরাপত্তাও। এজন্য সহকারী শিক্ষক পদকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিও সামনে এসেছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নেত্রী খায়রুন নাহার লিপি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করা হলেও সেগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দাবিগুলো মীমাংসিত পর্যায়ে থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অগ্রগতি আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাইনি। আমরা বিষয়টি বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমাদের পাঁচজন শিক্ষক এখনো শাস্তি ভোগ করছেন। ৪৩ জনের বিষয়টি সামনে এলেও আমাদের পাঁচজন শিক্ষক এখনো নিজ নিজ উপজেলায় শাস্তির মধ্যে রয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ১০ ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড নিয়েও জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয়ে একটি স্পষ্ট সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উন্নয়নের জায়গাতেও আমরা আগের ব্যবধানেই রয়ে গেছি।
এসব কারণে শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা মূলত সেটিই বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমান সরকারের প্রধানও আমাদের শিক্ষক আন্দোলনের সময় বলেছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বিষয়টি সর্বাগ্রে দেখতে হবে। আমরা আশা ও বিশ্বাস করি, প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে যেসব যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
খাইরুন নাহার লিপি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, অচিরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তত অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়া হবে। কারণ অর্থনৈতিক মুক্তি না থাকলে সামাজিক মর্যাদাও সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না। সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রতিটি শিক্ষকের আর্থিক মর্যাদার জায়গাটি সমুন্নত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।
নতুন ও তরুণ শিক্ষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অথচ বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় যেসব নতুন শিক্ষক আসছেন, তাদের বেশিরভাগই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তারা মেধাবী। এই মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় ধরে রাখতে হলে জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে তাদের আর্থিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, পেটে ক্ষুধা থাকলে কীভাবে একজন শিক্ষক একটি জাতির ভিত মজবুত করবেন? তরুণ ও মেধাবী শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষায় আকৃষ্ট করতে হলে আর্থিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষক যেন এন্ট্রি পদেই দশম গ্রেডে নিয়োগ পান, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। সহকারী শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষকতা পেশায় আসতে আকৃষ্ট হবে বলে আমি মনে করি।
এমপিওভুক্তদের একাধিক বৈষম্যের অভিযোগ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা, বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন সুবিধায় সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি শিক্ষক নেতাদের। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষায় বিদ্যমান সব বৈষম্য দূর করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর রিজার্ভ ফান্ড ও জেনারেল ফান্ডের সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দিলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়িভাড়া হিসেবে ১৫ শতাংশ পান। পক্ষান্তরে সরকারি শিক্ষকরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এলাকাভেদে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া পান। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা উৎসব ভাতা হিসেবে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পান, যেখানে সরকারি শিক্ষকরা শতভাগ উৎসব ভাতা পান।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মেডিকেল ভাতা হিসেবে ৫০০ টাকা পান। অন্যদিকে সরকারি শিক্ষকরা বর্তমানে ১ হাজার ৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা পাচ্ছেন এবং নবম পে-স্কেল অনুযায়ী তা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা হওয়ার কথা রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শিক্ষা ভাতা ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা দেওয়া হয় না। সরকারি শিক্ষকরা এসব ভাতাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু নেই, যেখানে সরকারি শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণ করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও কয়েকটি স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও ইতোমধ্যে অনেকগুলো স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণ করেছে। কিন্তু এই তিন সরকার মিলে একটি মাদ্রাসাও জাতীয়করণ করেনি।
তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তাদের স্কুল ড্রেস ও জুতা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদের এসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না।
বেতন কাঠামো বদলালেও বৈষম্য রয়ে গেছে
শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমদের মতে, শিক্ষকদের সংকট শুধু বেতন-ভাতার নয়; শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, পেশাগত প্রস্তুতি, কর্মপরিবেশ, পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার কাঠামোর দীর্ঘদিনের ঘাটতিও এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মতে, মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে হলে সম্মানজনক আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি পেশাগত নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্য ক্যারিয়ার পথ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। তবে এর সুফল মূলত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পাবেন। অথচ দেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষকের মাত্র ৩ শতাংশ সরকারি শিক্ষক। তারা সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১০ম গ্রেডের বেতন কাঠামোতে রয়েছেন। অন্যদিকে মাধ্যমিকের ৯৭ শতাংশ শিক্ষক এমপিওভুক্ত। তারা সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় মূল বেতন এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ সুবিধা পান। আর নন-এমপিও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে বেতন পান, যা এর চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকও বেসরকারি ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। তাদের জন্য বেতন কাঠামোর কোনো নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নেই। ফলে শিক্ষকদের সংকটময় অবস্থা থেকেই যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের শিক্ষা ভাবনায় অনেক পরিবর্তনের আশ্বাস শোনা যাচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মনজুর আহমদ বলেন, মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী করে তুলতে হবে। তবে বর্তমানে ঔপনিবেশিক আমলের ভেরিফিকেশন ব্যবস্থার কারণে শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহ আরও কমতে পারে। তাই বিষয়টি সরকারের পর্যালোচনায় রাখা উচিত।
শিক্ষকদের বর্তমান সংকটের সঙ্গে বৈশ্বিক শিক্ষক সংকটের বিষয়টি মিলিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকতার ভূমিকা ও মর্যাদা শুধু বেতন-ভাতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে পেশাগত প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, কর্মপরিবেশ, পদোন্নতি, দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়ও যুক্ত। বাংলাদেশে শিক্ষক ব্যবস্থাপনার এসব জায়গায় দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে। তাই শুধু নতুন প্রকল্প বা প্রশিক্ষণ নয়, শিক্ষকতা পেশাকে দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় পরিণত করার উদ্যোগ প্রয়োজন।
তার মতে, শিক্ষকরা সমাজের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। তাই তাদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হলে তাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ক্যারিয়ার পথ, সম্মানজনক বেতন-ভাতা এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।