সিরিয়ায় জঙ্গিদের দলে ভিড়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

সিরিয়ায় জঙ্গিদের দলে ভিড়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক
  © সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর দলে ভিড়ে সিরিয়ায় চলে গিয়েছিলেন রাজধানীর বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মিনহাজ হোসেন (৩৮)। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর দারুস সালামের কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। 

পুলিশ বলছে, উগ্রবাদে দীক্ষিত হয়ে সিরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন হায়াত তাহরির আল শামের (এইচটিএস) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন মিনহাজ। গত সেপ্টেম্বরে দলটির আমন্ত্রণে সিরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তিনি বেশ কিছুদিন তুরস্কে অবস্থান করেন এবং তারপর সিরিয়ায় চলে যান।

সেখানে গিয়ে এইচটিএস নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হন মিনহাজ। মাস তিনেক পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। ঢাকা থেকে খুলনায় চলে যান এবং নব্য জেএমবির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কারও কারও সঙ্গে তিনি কথা বলতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জেনেছে পুলিশ।

সিরিয়া থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ঢাকায় ঢুকে পড়েছেন, এমন তথ্য জানার পরপরই তাঁকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। 

জানা গেছে, এইচটিএস অপেক্ষাকৃত নতুন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী, এর উত্থান ২০১৭ সালে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাতে এই গোষ্ঠী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, মিনহাজ অতি সম্প্রতি জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, জাতিগতভাবে বাংলাদেশি হলেও মিনহাজ বেড়ে উঠেছেন পাকিস্তানে। তার মা পাকিস্তানে চাকরি করতেন। বাবা থাকতেন ঢাকার মালিবাগে। পরে মায়ের সঙ্গে তিনি পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে চলে যান। পিএইচডি শেষে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন ২০১৭ সালে।

জানা গেছে, মিনহাজ লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে স্নাতক পাস করেছেন, স্নাতকোত্তর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটিতে। তাঁর পিএইচডি ব্রুনেই দারুসসালামের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

বেসরকারি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টির এক কর্মকর্তা বলেন, দেড় বছর আগে সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর কি করছে বা কোথায় গেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা জানেনা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ