ন্যাশনাল বিজনেস অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান © সৌজন্যে প্রাপ্ত
সিটি ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ ও বিজনেস অ্যান্ড ইনোভেশন ক্লাবের সহযোগিতায় ন্যাশনাল বিজনেস অলিম্পিয়াড ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩৫টি কলেজের প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যা প্রতিযোগিতাটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে পরিণত করে।
কঠোর প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত শীর্ষ ২০ জন বিজয়ীকে ৫ মে ২০২৬ তারিখে সিটি ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের মধ্যে নগদ অর্থ পুরস্কার, সনদপত্র, ক্রেস্ট ও মেডেল প্রদান করা হয়। এ বছরের চ্যাম্পিয়ন হন মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের শিক্ষার্থী নিয়াহিতা দাস নীলাঞ্জনা। বিজয়ীদের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটির সবুজ ও মনোরম ক্যাম্পাস ভ্রমণেরও আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও, সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বিজনেস অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শীর্ষ ১০ জন বিজয়ীকে ক্রেস্ট, সনদপত্র, মেডেল ও নগদ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এর আগে, ৪ মে অনুষ্ঠিত হয় স্টার্টআপ বিজনেস আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬, যেখানে সিটি ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের ২০টি দল তাদের উদ্ভাবনী ব্যাবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে। সেরা ৩টি দলকে সিড ফান্ডিং, ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদপত্র প্রদান করা হয়, যা তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে উৎসাহ জোগাবে।
গত ৫ মে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে, যেখানে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান (অব.)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বগুণ, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী শাহদাত কবির, ট্রেজারার শাহেদুজ্জামান চৌধুরী, এফসিএ এবং রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. এম. গোলাম মোহায়মেন (অব.)।
প্রফেসর ড. কাজী শাহদাত কবির তার বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে।
ট্রেজারার শাহেদুজ্জামান চৌধুরী আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে সংযুক্ত করেছে।
রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. এম. গোলাম মোহায়মেন (অব.) শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স-এর ডিন প্রফেসর ড. জুলফিকার হাসান। তিনি তার বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি বিজনেস অ্যান্ড ইনোভেশন ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচালকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। সার্বিকভাবে, ন্যাশনাল বিজনেস অলিম্পিয়াড ২০২৬ শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।