এনএসইউতে ‘নীল বিদ্রোহের স্মৃতিপটে: যা অম্লান, যা বিস্মৃত, যা বিবর্তিত’ শীর্ষক আলোচনা সভা

০৩ মে ২০২৬, ০৫:২০ PM
সম্মানিত অতিথিকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হচ্ছে

সম্মানিত অতিথিকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হচ্ছে © সংগৃহীত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ (এসএইচএসএস) আজ ‘নীল বিদ্রোহের স্মৃতিপটে: যা অম্লান, যা বিস্মৃত, যা বিবর্তিত’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এসএইচএসএস ডিস্টিংগুইশড লেকচার সিরিজের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএইচএসএস কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এবং ‘স্পর্ধা: ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেক্টিভ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ। 

এনএসইউ এসএইচএসএসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনার সূত্রপাত করেন। তিনি আন্তঃবিভাগীয় আলোচনার পথ সুগম করতে ‘ডিস্টিংগুইশড লেকচার সিরিজ’- এর তাৎপর্যের ওপর আলোকপাত করেন এবং উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম আইন, ইংরেজি, ইতিহাস এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বাইরে গিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বৈচিত্র্যময় বিষয়াবলি অন্বেষণের সুযোগ করে দেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস যে কেবল বর্তমানকে রূপায়িত করে তা নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানাবিধ বিবেচনা ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে নতুনভাবে আখ্যায়িত করার প্রবণতা থাকে—আলোচ্য গ্রন্থটি সেই প্রবণতাকেই সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করেছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, স্মৃতি-অধ্যয়ন বা ‘মেমোরি স্টাডিজ’-এর ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মূল বক্তা অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে নীল বিদ্রোহকে ঘিরে গড়ে ওঠা সামষ্টিক স্মৃতির স্তরগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার মাধ্যমে তার আলোচনা শুরু করেন। নিজস্ব অনুসন্ধান ও গবেষণার আলোকে তিনি তুলে ধরেন কীভাবে কৃষক সমাজের যন্ত্রণা এবং প্রতিরোধকে লোকজ ঐতিহ্যের মাধ্যমে সুকৌশলে সংরক্ষণ, ঔপনিবেশিক নথিপত্র থেকে অপসারণ এবং আধুনিক সাংস্কৃতিক প্রতীকে রূপান্তর করা হয়েছে। তার সহজবোধ্য তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং বাস্তবধর্মী উদাহরণগুলোর প্রয়োগ এই জটিল আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসকে সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলে। ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে নীল বিদ্রোহের স্মৃতি ও আখ্যানসমূহ কখনোই একক বা অভিন্ন রূপ ধারণ করেনি এবং এই বিদ্রোহ নিছক কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক চলমান ঐতিহ্যের অংশ-এ অভিমত ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক এবং এনএসইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন।  তিনি উল্লেখ করেন, এই মতবিনিময় আঞ্চলিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়াবলি নিয়ে এক পরিশীলিত আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা আধুনিক যুগের সামাজিক ন্যায়বিচার অনুধাবনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ যে আজও অপরিহার্য তা প্রমাণ করে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ শ্রেণিবৈষম্য, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অতিথি বক্তার সাথে প্রাণবন্ত মতবিনিময় করেন। সম্মানিত অতিথিকে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদানের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

প্রাথমিকে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ১৪৩০০ জনের কাউকে বাদ দেওয়া …
  • ০৩ মে ২০২৬
 প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা শুরু ১০ মে
  • ০৩ মে ২০২৬
ক্রীড়া কূটনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন জাইমা রহমান, যা বললেন ক্রীড়া…
  • ০৩ মে ২০২৬
শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন অনলাইনে
  • ০৩ মে ২০২৬
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব
  • ০৩ মে ২০২৬
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু
  • ০৩ মে ২০২৬