বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণাও দেন নিজের নামে

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ PM , আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ AM
পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে যুক্ত হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে যুক্ত হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত

আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে চার নেতার জীবনীর পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী।  নতুন দুই নেতার জীবনী সংযোজনের পাশাপাশি বিদ্যমান চার নেতা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীও রাখা হয়েছে। তবে নতুন সংস্করণে পরিমার্জন করা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী। এতে তার পরিচয়ের শুরুতে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম স্থপতি’ উল্লেখ করা হলেও ১৯৬৯ সালে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়ার তথ্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

বইয়ে এ-ও বলা হয়, অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পর মেজর জিয়াউর রহমান প্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। উচ্চারণ করেন ‘উই রিভোল্ট’। পরে ২৭ শে মার্চ পুনরায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন তিনি। প্রথমে তিনি নিজের নামেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তী ঘোষণায় তিনি ‘শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে’ বাক্যটি যুক্ত করেন। 

পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায় বিশ্লেষণে এমন তথ্য জানা গেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধ্যায়টির নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যায়টির নাম রয়েছে ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’। আগামী শিক্ষাবর্ষে এর নাম রাখা হয়েছে ‘স্মরণীয় বরণীয় নেতা’। তবে অধ্যায়ের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে। চলতি শিক্ষাবর্ষের মতো আগামী শিক্ষাবর্ষেও পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে মোট ১৬টি অধ্যায় থাকবে। মূল পরিবর্তন এসেছে চতুর্থ অধ্যায়ের নাম ও বিষয়বস্তুতে।

শেখ মুজিবের জীবনীতে যেসব পরিবর্তন
২০২৬ সালের বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী শুরু হয়েছে তাঁর জন্ম ও শিক্ষাজীবনের তথ্য দিয়ে। তবে ২০২৭ সালের বইয়ে শুরুতে তাকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম স্থপতি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জন্মস্থান হিসেবে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামের উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য ও তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।

অধ্যায়টির নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যায়টির নাম রয়েছে ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’। আগামী শিক্ষাবর্ষে এর নাম রাখা হয়েছে ‘স্মরণীয় বরণীয় নেতা’। তবে অধ্যায়ের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে। চলতি শিক্ষাবর্ষের মতো আগামী শিক্ষাবর্ষেও পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে মোট ১৬টি অধ্যায় থাকবে। মূল পরিবর্তন এসেছে চতুর্থ অধ্যায়ের নাম ও বিষয়বস্তুতে।

বিদ্যমান বইয়ে বলা আছে, ভারতবর্ষ বিভক্তির পর শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। নতুন সংস্করণে সাল উল্লেখ করে ভারতবর্ষ বিভক্তির পরিবর্তে বলা হয়েছে যে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর  শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। 

শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকারের শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন বলা থাকলেও নতুন সংস্করণে এর সঙ্গে ‘তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য’ কথাটি যুক্ত হয়েছে। একইভাবে, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দাবি পেশের ক্ষেত্রে নতুন বইয়ে ‘স্বায়ত্তশাসন আদায়ের লক্ষ্যে’ কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ছয় দফা দাবির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

দুই সংস্করণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি পার্থক্য দেখা গেছে ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন ও শেখ মুজিবের মুক্তির বিবরণে। ২০২৬ সালের বইয়ে বলা আছে, ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নিঃশর্ত মুক্তিলাভের পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। কিন্তু আগামী ২০২৭ সালের বইয়ে মুক্তির তথ্যটি রাখা হলেও উপাধি পাওয়ার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে এখন বলা আছে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তার নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। নতুন সংস্করণে বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে সরকার গঠন করতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। 

এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে আটক করে পাকিস্তানে বন্দি করে রাখে বলা থাকলেও নতুন বইয়ে আটকের স্থান হিসেবে ঢাকার নাম যুক্ত হয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশে ফেরার বিষয়টিও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। আগের বইয়ে শুধু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার কথা বলা হলেও নতুন সংস্করণে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন।

তবে তার শিক্ষাজীবন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার বিবরণ দুই সংস্করণেই রয়েছে।

জিয়াউর রহমানের জীবনীতে যা আছে
২০২৭ সালের বইয়ে জিয়াউর রহমানকে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে। বাবা মনসুর রহমান ও মা জাহানারা খাতুন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তাঁর পরিবার পাকিস্তানের করাচিতে চলে যায়।

জীবনীতে তাঁর শিক্ষাজীবন ও সামরিক কর্মজীবনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। ১৯৫২ সালে করাচি একাডেমি স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার বিবরণে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর তিনি প্রথমে ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরদিন ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রথমে ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মুক্তিবাহিনীর প্রথম সশস্ত্র ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’ গঠন ও পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাঁকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তথ্য রয়েছে তাঁর জীবনীতে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের মধ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন, সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা এবং খাল খনন কর্মসূচির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

জীবনীতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তিনি নিহত হন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান
নতুন বইয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র, সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রসঙ্গ দিয়ে। তাঁর প্রকৃত নাম খালেদা খানম পুতুল। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। একই বছর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

আরও পড়ুন: নবম শিক্ষক নিয়োগে সিলেবাসে আসছে বড় পরিবর্তন, পরীক্ষা তিন ধাপে

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালে দলটির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির পূর্ণ বিকাশ ঘটে বলেও জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর তিন মেয়াদের বিবরণে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে চারদলীয় জোট জয়লাভ করলে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

বইয়ে তাঁকে বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন প্রণয়নের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ‘গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া এবং যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়টিও জীবনীতে স্থান পেয়েছে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

জীবনীর শেষাংশে তাঁর কারাবরণ, মুক্তি ও মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৬ আগস্ট তিনি নিঃশর্ত মুক্তি লাভ করেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁর জানাজাকে বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

স্বাধীনতার ঘোষণার পটভূমি
আগামী শিক্ষাবর্ষের এই বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ অংশে স্বাধীনতার ঘোষণার পটভূমি জানিয়ে বলা হয়, অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে চট্টগ্রামে তৎকালীন ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ- অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ বলে প্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এরপর  রাত ২ টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাসদস্য ও স্বাধীনতাকামী জনগণকে নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

বেতারকেন্দ্রের ঘোষণা নিয়ে বলা হয়, ২৭ শে মার্চ তিনি পুনরায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। প্রথমে তিনি নিজের নামেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তী ঘোষণায় তিনি ‘শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে’ বাক্যটি যুক্ত করেন। এভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

২০২৬ সালের বইয়ে এই অংশ এভাবে লেখা রয়েছে, পাকবাহিনী এই আক্রমণের নাম ইতিহাসে 'কালরাত' নামে পরিচিত। ঐ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করা হয়। ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পরিমার্জনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইইআর) চারজন শিক্ষককে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে তাঁরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ায় দুটি এবং এনসিটিবিতে কয়েকটি কর্মশালার মাধ্যমে বই পরিমার্জনের কাজ সম্পন্ন হয়।

অন্য খবর: শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে সোনালী ব্যাংক, আবেদন আহবান

কমিটিগুলোকে মূলত ইতিহাসের কোনো বর্ণনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন, তথ্যগত অস্পষ্টতা বা ভুল তথ্য থাকলে তা ঠিক করা এবং শিক্ষার্থীদের বয়স ও উপযোগিতা বিবেচনায় বিষয়বস্তু আরও সহজ ও স্পষ্ট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী ছবি ও মানচিত্র পরিবর্তনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ইতিহাস, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির মতো বিভিন্ন বিষয় থাকায় প্রতিটি উপবিষয়ের জন্য পৃথক বিশেষজ্ঞ প্যানেল কাজ করেছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ শিরোনাম পরিবর্তন করে ‘স্মরণীয়-বরণীয় যারা’ করা হয়েছে। আগের বইয়ে এ অধ্যায়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শেখ মুজিবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী ছিল। নতুন সংস্করণে তাদের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী যুক্ত করা হয়েছে।

এ দুটি বিষয়ই বইয়ের উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এ ছাড়া অন্যান্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বানান সংশোধন, তথ্য আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন, অস্পষ্ট ছবি পরিবর্তন এবং ভূগোলের কিছু মানচিত্র উন্নত করা। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের সহযোগিতায় কিছু নতুন মানচিত্রও তৈরি করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার ঘোষণাসংক্রান্ত বর্ণনায় পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার বর্ণনা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা আগের সংস্করণেও ছিল। স্বাধীনতার ঘোষকসংক্রান্ত বর্ণনায় গত বছরই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। চলতি পরিমার্জনে বিষয়টি আরও সংশোধন করা হয়েছে। বগুড়ার কর্মশালার পর ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ইতিহাসের অংশ পর্যালোচনার জন্য আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নাসিরসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এ কমিটিতে ছিলেন। তারা শুধু পঞ্চম শ্রেণির বই নয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের বর্ণনাগুলো পর্যালোচনা করেন। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের পক্ষ থেকেও কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। উচ্চপর্যায়ের কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতেই বইগুলোতে ইতিহাসের বর্ণনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে ‘স্মরণীয়-বরণীয় যারা’ অধ্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘স্বাধীনতার অন্যতম স্থপতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিটিবি থেকে ‌‘অন্যতম স্থপতি’ শব্দটা যোগ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞ প্যানেল নাকি অন্য কোনো টিম পরিবর্তন করেছে, তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না।

এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ শেষে হচ্ছে দুপুরে
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির প্রশাসনিক পর্ষদের পূর্ণ সদ…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ডিআরইউ মিডিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের স্পনসর হলো ওয়ালটন
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
গোল্ডেন বুট জিতলেন মেসি
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিপ্লবী…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
নেতৃত্বে সালাম-রবিন, পদ পেলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েলও
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950