প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের মানবিক সমস্যার সমাধান চায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি © টিডিসি সম্পাদিত
স্বামী কিংবা স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানা অথবা কর্মস্থল বিবেচনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যকর নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এ আবেদন করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বামী কিংবা স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানা ও কর্মস্থল থেকে দূরবর্তী স্থানে চাকরি করায় পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে বসবাস, সন্তানদের লালন-পালন, বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এতে বলা হয়, এ পরিস্থিতি শিক্ষকদের স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন ও মানসিক স্বস্তির ওপর প্রভাব ফেলছে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও মানবিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রচলিত বদলি নীতিমালা এবং প্রযোজ্য সরকারি আদেশের আলোকে স্বামী অথবা স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানা কিংবা কর্মস্থলের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এতে আরও বলা হয়, এ ক্ষেত্রে শূন্য পদ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক চাহিদা এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর বদলি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পারিবারিক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি আবেদনে উল্লেখ করেছে, সংগঠনটি ১৯৩৫ সাল থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার পারিবারিক ও মানবিক সমস্যার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে তাঁদের স্বামী অথবা স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানা কিংবা কর্মস্থল বিবেচনায় বদলির সুযোগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
সমিতির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মানবিক ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ শিক্ষকদের পারিবারিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।