‘ঘুষডটসাইট’-এ অভিযোগ

মৃত মায়ের সরকারি পাওনা তুলতে সন্তানের কাছে ঘুষ দাবি, শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৩ AM , আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ AM
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন © টিডিসি ফটো

মৃত মায়ের সরকারি পাওনার ১০ লাখ টাকা পেতে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছিলেন তার ১৭ বছর বয়সী সন্তান শাহেদ শরীফ আহমেদ। অভিযোগের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে শোকজ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তিন দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে শো-কজের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে। এর তিন দিন পর, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে বদলি করে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়।

বদলির কারণ হিসেবে অফিস আদেশে ‘জনস্বার্থে’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুই কর্মচারীকে শোকজ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা এবং এর পরপরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তাকে কেন বদলি করা হলো, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

শাহেদের অভিযোগ, তার মা আমিনা খাতুন চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর কল্যাণ তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরও আট লাখ টাকা পাওয়ার কথা তাদের পরিবারের। সব মিলিয়ে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা পেতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ শাহেদের।

আরও পড়ুন: বিধিবহির্ভূতভাবে বকেয়া বেতন-ভাতা নিলেন ১০১ কর্মকর্তা, ফেরত দিতে হবে সোয়া ২ কোটি টাকা

তার দাবি, ‘ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না’ বলেও তাদের জানানো হয়। পরে তিনি এ ঘটনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইটে’ অভিযোগ করেন। অভিযোগটি সামনে আসার পর গত ৩১ আগস্ট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের স্বাক্ষরিত শো-কজ নোটিশে দুই কর্মচারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন সিকদার বলেন, ‘আমাদের তিনজনকে শো-কজের বিষয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন গত রোববার জমা দেওয়া হয়েছে। এর বেশি এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।’

এর তিন দিনের মাথায়, ৯ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা থেকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) মোছাম্মদ রোখসানা হায়দার স্বাক্ষরিত আদেশে মনিকা পারভীনকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে আদেশে বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কোনো অভিযোগ, তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা বলা হয়েছে। বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে মনিকা পারভীন বলেন, ‘আমাদের কার্যালয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না, তা আমার জানা নেই।’

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো কর্মকর্তা সরকারি আদেশে যেকোনো সময় বদলি হতে পারেন। শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলির পেছনে আলাদা কোনো কারণ আছে কি না, আমার জানা নেই।’

তবে ঘুষ.সাইটে করা অভিযোগ ও দুই কর্মচারীকে শোকজের সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘুষ.সাইটে অভিযোগ ও শোকজের কারণেও হতে পারে। আবার নান্দাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করে থাকতে পারেন, এ কারণেও হতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, শোকজ নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন এবং শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলাম শামীমের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব চাপের কারণেই মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি ঘুষ.সাইট চালু করে আলোচনায় আসার পর শাহেদও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

শাহেদ বলেন, ‘প্ল্যাটফর্ম চালু করে আলোচনায় আসার পর থেকে বিভিন্নভাবে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে এখনো থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে থানায় অভিযোগ করা হবে।’

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিজ্ঞতা থেকেই ‘ঘুষ.সাইট’ তৈরির উদ্যোগ নেন শাহেদ শরীফ আহমেদ ও সাইফ কবির নামে দুই তরুণ। শাহেদ আরও জানান, মৃত মায়ের সরকারি পাওনা তুলতে গিয়ে তার বাবাকে ঘুষ দিতে হয়েছে। এমনকি নিজের পাসপোর্ট করাতেও ঘুষ দাবির অভিজ্ঞতা হয় তার। সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দিতে হবে কেন এই প্রশ্ন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: বাজারে যাওয়ার সুযোগে ৪১ দিনের শিশু চুরি, নোয়াখালী থেকে উদ্ধার করল পুলিশ

প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট ওয়েবসাইটটি চালুর পর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মটিতে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে দাবিকৃত ঘুষের অর্থের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা।

তবে ওয়েবসাইটে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগকে সত্য বলে দাবি করছেন না উদ্যোক্তারা। তাদের ভাষ্য, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দাবি বা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগগুলো একটি প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে বদলে ফেলুন এই ৮ অভ্যাস
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৃত মায়ের সরকারি পাওনা তুলতে সন্তানের কাছে ঘুষ দাবি, শিক্ষা…
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিপিএলে দুর্নীতির তদন্তে নতুন মোড়
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুপুরের মধ্যে ৩ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৃত্যুর ৮ মাস পর কফিনে দেশে ফিরলেন লিবিয়া প্রবাসী তরিকুল
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাসের বুকে ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9