প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী শূন্যে নামাতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: ববি হাজ্জাজ

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৭ PM
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ © মন্ত্রণালয়

প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুলে না আসা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, কিছুসংখ্যক শিশু স্কুলে আসছে না। সেটার সংখ্যা খুবই অল্প। 

‘‘প্রাইমারি শেষ হতে হতে আমরা দেখছি, ১০ থেকে ১৬ শতাংশ স্কুল সিস্টেমের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাহলে ছোট একটা অংশ আছে, যারা প্রথমেই আসছে না এবং আরেকটু বড়, বাট অত বড় না, একটা অংশ আছে যারা ঝরে পড়ছে। এটা অ্যাড্রেস করার কাজ আমরা করছি।’’

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মিরপুর-১-এ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশি-বিদেশি ১৯টি এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ঝরে পড়া রোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, আউট অব স্কুল যেন জিরো হয়, একদম জিরো আউট অব স্কুল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছেন। মিড-ডে মিল যেন পুষ্টিকর খাদ্য প্রত্যেকদিন প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা পায়। 

শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে আনন্দের মাধ্যমে শেখানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, লার্নিং থ্রু হ্যাপিনেস, লার্নিং থ্রু প্লে এটা করতে চাই। আজকেও আমরা যে ১৯টি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে আলোচনা করেছি, এখানে কীভাবে টয়েজ দেওয়া যেতে পারে, মানে খেলনা, শিক্ষণীয় খেলনা, সায়েন্স টয়েজ, ম্যাথ টয়েজ দেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, ব্র্যাক থেকে শুরু করে আরও কিছু অর্গানাইজেশন আছে, যারা ইতোমধ্যে এগুলো দিচ্ছেন। এগুলো আমরা বৃহত্তর আকারে দেশব্যাপী কীভাবে দিতে পারি কি না সেটা নিয়ে কাজ করছি। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে, ইউনিফর্ম পাচ্ছে, পুষ্টিকর খাদ্য পাচ্ছে, স্কুলে এসে তারা খেলার মাধ্যমে শিখতে পারছে, আবার মজা পাচ্ছে। মজা পেয়ে আনন্দের জন্য তারা স্কুলে আরও বেশি রয়ে যাচ্ছে এরকম অনেক ধরনের উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি, যার মাধ্যমে ড্রপআউট লেভেল প্রাথমিক একদম জিরোতে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ার প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকে ভর্তি না হয়ে মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে কিংবা কিন্ডারগার্টেনে চলে যাচ্ছে এগুলোর প্রবণতাও আমরা দেখেছি। গত পাঁচ বছরে কয়েক শতাংশ কমেছে। কয়েক শতাংশ কমা এটা আমাদের প্রচার হওয়া উচিত না। প্রচার হওয়া উচিত কোয়ালিটি অব এডুকেশন।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, একটা শিক্ষার্থী প্রাইভেটে যাচ্ছে, মাদ্রাসায় যাচ্ছে, পাবলিকে যাচ্ছে এটা মাথাব্যথা না। মাথাব্যথা হলো এই শিক্ষা পাচ্ছে কিনা এবং সেই জায়গা থেকে আমরা এখন কাজ করছি।

সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  সরকারি প্রাথমিকের মান  উপরে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি, একই সঙ্গে আশপাশের কেউ যেন নিচু মানের শিক্ষা প্রদান করতে না পারে, সেই রেগুলেশনের জন্য আমরা কাজ করছি।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কমিটি ফর্ম করা হয়েছে, যারা এগুলো নিয়ে কাজ করছে। ইনশাল্লাহ আরও প্রস্তুত হয়ে গেলে এসব বিষয়ে আপনাদের জানাব।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা একটি উদ্যোগ নিতে চেষ্টা করছি, লোকাল কমিউনিটিকে এঙ্গেজ করার জন্য। আমরা বিগত দিনগুলোতে দেখেছি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে লোকাল কমিউনিটি ঠিক তাদের আপন ইনস্টিটিউশন হিসেবে একটু কম দেখার একটা প্রবণতা থাকে। ফলে সরকারি প্রাথমিকের প্রতি এলাকাবাসীর যে একটা সহানুভূতি বা একটা কেয়ার থাকতে পারে, সেটা অনেক জায়গায় মিসিং।

বেসরকারি সংগঠনগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা শুধু সরকারি প্রাথমিকের জন্য কমিউনিটি চাই না, সকলের জন্য কমিউনিটি চাই। কারণ একই সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টরে অনেক স্কুল আছে, যেগুলো কিন্তু পুরোপুরি কাজ করছে এবং কমিউনিটির সঙ্গে আসলে তাদের কোনো এনগেজমেন্ট নেই, এই ধরনের কমপ্লেইন আমাদের কাছে অনেক আসে। ঢাকায় অনেক কমপ্লেইন আসে, আবার আমরা লোকাল নেতাদের কাছ থেকেও শুনি যে লোকালি এই জিনিসগুলো হয়। অনেক কমপ্লেইন আসে। তাই আমরা ওভারঅল একটা স্কুলিং সিস্টেমে দেখতে চাই।  সেই জায়গা থেকে কোন মডেলগুলো সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে, আজকে এগুলো নিয়ে আপনাদের সঙ্গে বসা।

কমিউনিটি সম্পৃক্ততায় দুটি আঙ্গিকে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একটা হলো সব গার্ডিয়ানকে সম্পৃক্ত  করা। আমাদের প্যারেন্ট-টিচার অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ) প্রত্যেকটা স্কুলেই থাকে। তারপরও একটা আলাদা করে গার্ডিয়ান সার্কেল তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক মাসে প্রত্যেকটা ক্লাসের গার্ডিয়ানদের কিছু দায়িত্ব থাকবে।
স্কুল পর্যায়ে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে স্কুল লেভেলে এলাকাবাসীদের সঙ্গে আমরা একটা স্কুল বন্ধু, কমিটির মতো, আমরা করতে চাই। যেটাকে আমরা এই মুহূর্তে বলছি স্কুল বন্ধু রেজিস্টার।

এই রেজিস্টারে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় যারা রেসপেক্টেবল, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ আছেন, তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হতে পারেন, অফিসার হতে পারেন, পুরোনো শিক্ষক, হেডমাস্টার হতে পারেন, আবার এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও হতে পারেন। তাদেরকে স্কুলের বন্ধু হিসেবে ইনক্লুড করা হবে। তাদেরও কিছু অ্যাক্টিভিটি থাকবে, সহযোগিতা করা, স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এমন আঙ্গিকে আমরা কাজ করতে চেষ্টা করছি।

এনজিওগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকে যে ১৯টা অর্গানাইজেশন ছিল, যারা শিক্ষার ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজ করেন, তারা দশকের পর দশক কাজ করে যাচ্ছেন, অবদান রেখে যাচ্ছেন। তারা কীভাবে কমিউনিটি এনগেজমেন্টের জন্য কাজ করেছেন, আমরা যে জিনিসগুলো করতে চেষ্টা করছি, তারা এই জিনিসগুলোকে কীভাবে দেখছেন, কী মনে করেন এই ইন্টারসেকশনের জন্য আজকে মিটিংটা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে ১৯টা অর্গানাইজেশনের সঙ্গে আমরা বসেছি, তারা বিগত দশকগুলোতে অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন এবং তাদের অনেক কাজের সঙ্গে আমরা যেটা করতে চেষ্টা করছি, তার অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। তারা আমাদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং শক্ত আস্থা দিয়েছেন যে, এগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য যখন আমরা কাজ করব, তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন, সহযোগিতা করবেন। আজকের মিটিংয়ের রেজাল্ট নিয়ে আমরা খুবই উৎসাহিত এবং আনন্দিত।’

২০২৮ সালের মধ্যে একটি অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় সবাইকে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, ২০২৮-এর ভেতরে আমরা একদম ইউনিফর্ম রেগুলেটরি একটা আমব্রেলার মধ্যে সকলকে নিয়ে আসার কাজ করছি।

ডাকসুর উদ্যোগে সিনো-বাংলা ডে: ৩০-৪০ চীনা প্রতিষ্ঠানে ৪৩০ চা…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
মির্জা গালিবের মত সুশীলরাই সুশীলতা দিয়ে দেশকে ধ্বংস করেছে
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী শূন্যে নামাতে উদ্যোগ নিয়েছেন প…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি থেকে জাবির বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
নেত্রকোনায় বসতভিটা বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, বৃদ্ধা নিহত
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
দাবি আদায়ে ফের মানববন্ধনে পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬