প্রাথমিক বিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
প্রাথমিক বৃত্তির রেশ যেন কাটছেই না। কয়েক দফা পিছিয়ে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার ফল প্রকাশের প্রত্যাশা যাচ্ছে না। এর আগে মে মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে এই ফল প্রকাশের উদ্যোগের কথা জানানো হলেও ঈদুল আজহার আগেও এই ফল প্রকাশ হবে কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফল প্রকাশের একটি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। তবে খাতা মূল্যায়নসহ অনেক কাজ এখনো বাকি। সেজন্য মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশ সম্ভব হবে না। কবে ফল হবে, সেটা বলাও মুশকিল।’
ঈদুল আজহার আগে ফল প্রকাশ সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হয়তো ঈদের ছুটির আগে হতে পারে। খাতা মূল্যায়ন, ফল তৈরির কাজগুলো সময়সাপেক্ষ। পরীক্ষার্থীও অনেক, সেজন্য বিষয়টি টাফ (কষ্টসাধ্য)...তারপরও অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে। হয়তো ঈদের ছুটির আগে এ ফল প্রকাশ করা হতে পারে।’
তথ্যমতে, এবার মোট বৃত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৫০০টি। অর্থাৎ, মেধাক্রম ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক হিসাবে এ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী- বৃত্তির অনুপাত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রের ৮ঃ১ (প্রতি ৮ জনে একজন) এবং বেসরকারির ক্ষেত্রে ৫.৫ঃ১ (প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন)।
শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এ আর্থিক সুবিধা পাবে।
এদিকে, প্রাথমিক বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলে বাড়তি হারে বৃত্তির টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা। এটি আগামী ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের (যারা আগামীবার পরীক্ষা দেবে) ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
এদিকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত চেয়ে সম্প্রতি একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে। ২৩ এপ্রিল মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির (পল্লব) এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৮০ শতাংশ বৃত্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি জাতীয় মেধা ভিত্তিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নীতিমালার দফা ৮.৬ অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।