ছাত্রলীগ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে, তাই এটিকে ভারমুক্ত করে দেয়া জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এই আহবান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
প্রধানন্ত্রীর বক্তব্যের আগে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী। ছাত্রলীগের অভিভাবক। ছাত্রলীগ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। এটি কেমন দেখায়। এটিকে ভারমুক্ত করে দিবেন বলে আমরা আশা করছি।
এর আগের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা হত্যা করে এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে যারা অপমান করে এমন ছাত্রলীগ নেতা-কমীর প্রয়োজন নেই।
এছাড়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জন্য নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারই যথেষ্ট উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে সারাদেশে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক রয়েছেন। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর পরিবার সফলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।
ছাত্রলীগ আমাদের শৈশবের ভালোবাসা, কৈশোরের উচ্ছ্বাস, যৌবনের প্রেম ও বার্ধক্যের বিশ্বাস বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণাস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নবীন ও পুরানো এই মিলন মেলায় বাংলাদেশের সব বাগানে যত ফুল ফুটেছে, সব ফুলের শুভেচ্ছা ছাত্রলীগের জন্য দিলাম। এই মিলন মেলায় দাঁড়িয়ে আজ বারবার মনে পড়ছে— বঙ্গবন্ধুর সব সাফল্যের কেমিস্ট্রি কী ছিল? সেই কেমিস্ট্রি ছিল সাহস। বঙ্গবন্ধু কন্যার রসায়ন হলো, সাহস ও সততা।
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মী বিনয়ী থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এছাড়া রিসার্চ ও উন্নয়নের জন্য আলাদা সেল গঠন করা হবে বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ প্রশিক্ষক ও ছাত্রনেতা গড়ে তুলতে বছরের শুরুতে ওরিয়েন্টেশনাল প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য ছাত্র নেতাদের সামনে বক্তব্য দিতে পেরে নিজেকে ধন্যও মনে করেন আল নাহিয়ান খান জয়। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যরা।
আজ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী শুরু হয়েছে। এতে উপস্থিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে পুনর্মিলনীর উদ্বোধন করা হয়। এসময় সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের সাধারাণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।
জানা যায়, ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। আগামীকাল রবিবার (৫ জানুয়ারি) পালিত হবে রক্তদান কর্মসূচি। এরপর শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ। শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হবে।