রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন © ভিভিও থেকে নেওয়া
সরকারি শিক্ষকরা দপ্তরে কাজ করতে পারলে ডিজি অফিস-বোর্ডগুলোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কেন নয়? বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্মেলনে অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন বলেন, ‘আমরা জাতীয়করণ চাই। এই দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষক বেসরকারি, আর ৩ শতাংশ শিক্ষক সরকারি। আজকে ডিজি অফিস, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের সব জায়গায় সরকারি লোক কাজ করছেন। আমরা কি যেতে পারি না? বেসরকারি শিক্ষকদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন শিক্ষকদের বিভিন্ন দপ্তরে পদায়ন করা হোক— আজকের এই প্রত্যাশা আমি রাখছি।’
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ ছাড়া সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন বলেন, গত ১৭ বছর ধরে শিক্ষকদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি শিক্ষকদের জাতীয়করণের বিষয়টি এবং দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে যেভাবে সরকারি শিক্ষকরা কাজ করছেন, বেসরকারি শিক্ষকদের যোগ্যতা থাকার পরেও সেখানে কি আমরা যেতে পারি না।
সম্মেলনে শিক্ষক নেতা আতাউর রহমান বলেন, আমরা যখন জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করতে আসতাম, তখন আমাদের বিতাড়িত করা হতো। আমাদের অনেক সিনিয়র ভাই আছেন, যারা পুলিশের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। যেসব ত্যাগী ছাত্র সেসময়ে ছাত্র লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেনি, তাদের জন্য সরকার যেন একটি ব্যবস্থা করেন।
বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি কুমিল্লার সন্তান হিসেবে গর্ববোধ করি। সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া সারাজীবন শিক্ষকদের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মামলা খেয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, কিন্তু এখনো শিক্ষকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আজকের এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা প্রত্যাশা করছি, শিক্ষার জাতীয়করণ হবে, শিক্ষকদের জাতীয়করণ হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে, তা হয়েছে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।