বাম চোখে আর কখনও দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না আলিফের

৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ PM
মনিরা শারমিন ও আলিফ চৌধুরী

মনিরা শারমিন ও আলিফ চৌধুরী © সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর (১৯) বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরবে না। অস্ত্রোপচার শেষ হলেও চিকিৎসকেরা তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান।

তিনি লেখেন, আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। একটি চোখ চিরতরে আলো হারিয়েছে। ডান চোখটি ভালো আছে। এখন তাকে অস্ত্রোপচারের পর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, হামলায় চোখে রডের আঘাত পাওয়ার পর আলিফ চৌধুরী এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে ছিলেন। তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরী। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ওই দিন বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় শহরে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিল বের হলে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে যান।

আরও পড়ুন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-সার্জিস আলমের গাড়িবহরে হামলা 

এর কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িকেও ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তার গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

এনসিপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় তাদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হত্যাচেষ্টার মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ গ্রেপ…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
গরুবাজারের সড়কে বর্জ্যের স্তূপ, পথচারী-চালকদের ভোগান্তি
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
৩০ মিনিটের ব্যবধানে সিলেটে ফের এনসিপির গাড়িবহরে হামলা
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
মামাতো ভাইয়ের থাপ্পড়ের পর ফুফাতো ভাইয়ের ‘মৃত্যু’
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
জামালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু
  • ৩০ জুলাই ২০২৬