প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা
শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া © সংগৃহীত
রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। আজ বুধবার (৮ জুলাই) ১১ দলীয় জোট আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শহীদের বাবা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমি আহ্বান করব— আপনিও তো মজলুম; আপনার পিতা, আপনার মাতা, ওনারা তো দেশপ্রেমিক ছিলেন। সুতরাং, আপনি ইতিহাসের মহানায়ক হয়ে থাকতে পারবেন যদি গণভোটের রায়টা বাস্তবায়ন করেন। আমি শুধু একজন শহীদের পিতা হিসেবে, আমাদের কষ্টের জায়গা থেকে আপনাকে অনুরোধ করছি— আপনি অনতিবিলম্বে এই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে জাতির সামনে মহানায়ক হয়ে থাকেন।
বর্তমান সরকার পবিত্র মহররম মাসে কিশোর-তরুণদের রক্তের ওপর দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেন, ২০২৪-এর জুলাইয়ে আমার ছেলে জীবন দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। সেই সময় ছিল আশুরা, মহররম মাস। ১০ মহররম ছিল আশুরা, তার পরের দিন ১১ মহররম আমার ছেলের জীবন প্রদীপ কেড়ে নিয়েছিল ওরা। সেই মহররম মাস এখনো চলছে।
তিনি বলেন, আমি শুধু একটা কথাই স্মরণ করিয়ে দিব। যারা এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন— মহররম মাসে কিন্তু অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটে, ইসলামের ইতিহাসে আমরা সেটা পর্যবেক্ষণ করলে জানতে পারব। সুতরাং, এই মহররম মাসে যে কচি কচি প্রাণের বিনিময়ে আপনারা আজকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, আজকের সেমিনারে আমি যে কথাটা লেখা দেখতে পাচ্ছি— ‘দায়বদ্ধতা’, ‘আমাদের দায়বদ্ধতা’— আমি বলব যে আপনারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন, আপনাদের কিন্তু দায়বদ্ধতা আছে। আপনাদের দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। আজকে তাদের প্রাণের বিনিময়ে, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন।
শহীদ ফারহান ফাইয়াজের শাহাদাতের বর্ণনা দিয়ে তার পিতা বলেন, ২০২৪ সনের ১৮ জুলাই ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আমার একমাত্র ছেলে ফারহান ফাইয়াজ— সে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিল। সে যেহেতু সায়েন্স ক্লাব করত, সুতরাং তার অনেক কানেক্টিভিটি ছিল। সে সেন্ট জোসেফ এবং রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের তার জুনিয়র ভাইদের নিয়ে আন্দোলনে শামিল হয়েছিল। ১৬ তারিখে আবু সাঈদ যেদিন রংপুরে শহীদ হয়, সেই দিন সে আড়ংয়ের সামনে থেকে তার ছোট ভাইদেরকে নিয়ে গণভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থান নিয়েছিল।
তিনি বলেন, ১৬ তারিখে ওকে ফ্যাসিস্টরা টার্গেট করে ফেলে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ তারিখে ওকে টার্গেট করে একদম ওর বুকের মাঝখানে গুলি করা হয়। একটি মাত্র বুলেট ওর জীবন প্রদীপ কেড়ে নেয়। সেই থেকে আমার পরিবার পুরো ট্রমার মধ্যে আছে। এখন সেই জুলাই মাস আমাদের সামনে। জুলাই মাস আসলে আমাদের এই ক্ষতটা আরো বেড়ে যায়।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।