ব্যারিস্টার ফুয়াদ
এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ © সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার শুধু আদালতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সমাজে জনমত তৈরি, গণশুনানি আয়োজন এবং শহীদদের গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। অন্যথায় বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দুর্বল করার অপচেষ্টা সফল হতে পারে।
বুধবার (৮ জুলাই) ১১ দলীয় জোট আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও আমাদের দায়বদ্ধতা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘আমরা এমন এক দেশে বাস করি, যেখানে বিচারের জন্য আবার আলাদা কর্মসূচি করতে হয়। এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে? রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বই হচ্ছে নাগরিককে বিচার নিশ্চিত করা। বিচার চাইতে হয় প্রজাদের, নাগরিকদের নয়।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের মৌলিক প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যে রাষ্ট্রকে রিপাবলিক বলছি, সেটি আদৌ নাগরিক রাষ্ট্র কি না। যদি সংবিধান আমাদের প্রকৃত নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিত, তাহলে বিচারের দাবিতে জেলা-উপজেলা কিংবা জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি করতে হতো না। জুলাই গণহত্যার ক্ষেত্রে দুই ধরনের বিচার প্রয়োজন। একটি হলো, যেসব ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাদের বিচার। অন্যটি হলো, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার। এখন বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের লাখ লাখ কর্মী তো খুন করেনি, তাহলে দল হিসেবে কেন বিচার হবে? এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, কংগ্রেসের আদলে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হোক। সেখানে সব রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনানি হবে। বিটিভিসহ সব টেলিভিশনে তা সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ জানতে পারে জুলাইয়ে কী ঘটেছিল।’
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের গল্প গণমাধ্যমে পর্যাপ্তভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না।
ফুয়াদ বলেন, ‘১ হাজার ৪০০ শহীদের কোনো জীবনী নেই, তাদের গল্প মানুষের সামনে আসছে না। অথচ অন্য বিষয় নিয়ে প্রতিদিন টকশো হচ্ছে। এতে করে ধীরে ধীরে আমাদের সম্মিলিত স্মৃতি থেকে জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে শুধু বিচারিক প্রক্রিয়া দিয়ে ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। তাই বিচার, সংস্কৃতি ও জনমত এই তিন জায়গায় একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।’