এমপি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন © সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং ইবতেদায়িকে জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। আজ সোমবার (২২ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব দাবি জানান তিনি।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ইবতেদায়িসহ মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় শিক্ষাকে গুরুত্ব দেন এমপি আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের যে বাজেট দেয়া হয়েছে, আমরা সেখানে লক্ষ্য করেছি— সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার জন্য সর্বনিম্ন বাজেট দেয়া হয়েছে।
‘কিন্তু দুঃখের বিষয়’— আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের দেশে নৈতিক মানুষের চরম অভাব। আমাদের দেশের মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নৈতিক মানুষ তৈরি করতে না পারার কারণে আমাদের যুবসমাজ মাদকাশক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, মাদ্রাসা শিক্ষার বাজেট বৃদ্ধি করে হাফেজিয়া এবং এবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আরো বাজেট বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি সেখানে বাজেট দেয়া হয়েছে খুব সামান্য।
তিনি আরও বলেন, সেই সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি, এদেশে হাজার হাজার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক রয়েছেন, যারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষাকে এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি। এ ব্যাপারে বাজেটে কোন স্পষ্ট ধারণাও দেয়া হয়নি। এজন্য আমি আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষাকে জাতীয়করণ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
এমপি আফজাল হোসেন বলেন, এবতেদায়ি শিক্ষা ব্যবস্থাকে এখনো জাতীয়করণ করা হয় নাই। যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা, বেসরকারি প্রাথমিক সকল প্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণ করা হয়েছে, কিন্তু এবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সরকারিকরণ করা হয় নাই। আমি আপনার মাধ্যমে দাবি জানাতে চাই— এবতেদায়ি শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে সেখান থেকে আদর্শ মানুষ তৈরি করার একটা ব্যবস্থা করা হোক।
এ সময় ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, যদি আমাদের দেশের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে আগামীর বাংলাদেশ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ হবে বলে আমি মনে করি। এজন্য বাংলাদেশের প্রতিটা মসজিদ থেকে, প্রতিটা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে, মসজিদ, মন্দির, গির্জা থেকে— যার যার ধর্মের শিশুদেরকে যদি তাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা যেত, তাহলে আমাদের দেশে একদল আদর্শ এবং নৈতিক মানুষ তৈরি করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, এজন্য আপনার মাধ্যমে আমি মন্ত্রীকে অনুরোধ জানাতে চাই, প্রতিটা মসজিদ থেকে, প্রতিটা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় বড় করার ব্যবস্থা করা হোক। সেখানে গণশিক্ষার ব্যবস্থা করা হোক।