রাঙামাটিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ © সংগৃহীত
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে ১০ আহত হয়েছেন। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, ঘোষিত রাঙামাটি জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে আজ সোমবার (৪ মে) দুপুর থেকে পদবঞ্চিতরা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এক পর্যায়ে নব নির্বাচিত কমিটির সমর্থকরা পদ বঞ্চিত কর্মীদের হটিয়ে বিএনপি কার্যালয় দখলে নেয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ-সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি অফিসের আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্থণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।
রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত শারমিনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, রাঙামাটি পৌরসভা, কাঠালতলী এলাকা, বনরূপা ও আশেপাশে এলাকায় একটি ছাত্র সংগঠনের পদবঞ্চিত ও সংক্ষুদ্ধ নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থকরা লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারমুখী হয়ে অবস্থান করছে। তারাই ধারাবাহিকতায় এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ ব্যতীত অন্য কোন অননুমোদিত ব্যক্তিবর্গের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এই এলাকার ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন প্রকার মিছিল সভা/সমাবেশ ও যেকোনো প্রকার শব্দ বিবর্ধক যন্ত্র ইত্যাদি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে উক্ত এলাকায় সড়কে চলাচলকারী ব্যক্তি ও যানবাহন এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।
এর আগে দীর্ঘ আট বছর পর গত শনিবার (২ মে) রাত ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক এবং গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কমিটি ঘোষণা করার পর কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে গতকাল রবিবার (৩ মে) সকালে শহরের বনরূপা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কাঠালতলীস্থ দলীয় অফিসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে কমিটি বাতিলের দাবিতে নানারকম স্লোগান দিতে থাকেন তারা।