অভ্যুত্থানের পর অনেক মিডিয়ার মালিক সরকারের কাছে রাজনৈতিক সুরক্ষা চেয়েছেন: আসিফ

০৩ মে ২০২৬, ০৭:০৮ PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া © সংগৃহীত

অভ্যুত্থানের পর সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদক সরকারের কাছে রাজনৈতিক সুরক্ষা চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

রবিবার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘পাঁচ আগস্টের পর থেকে ধীরে ধীরে সংবাদমাধ্যমগুলোতে দখলদারিত্ব শুরু হয়—মালিকানা পরিবর্তন, সম্পাদক পরিবর্তন—সবই ঘটে। তখন আমি নিজেও সরকারের অংশ ছিলাম। অনেক সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদক আমাদের কাছে এসে রাজনৈতিক সুরক্ষা চেয়েছেন। তারা চেয়েছিলেন, সরকার যেন তাদের প্রতিষ্ঠানে কাউকে বসিয়ে দেয়, যাতে তারা রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারেন। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম গণঅভ্যুত্থানের পর এসব দখলদারিত্ব থাকবে না। বাস্তবে দেখা গেছে, শুধু হাতবদল হয়েছে, নিয়ন্ত্রণের কাঠামো একই রয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের প্রভাব বজায় রাখতে মিডিয়ায় ‘ব্যাকআপ’ তৈরি করে রাখে, যাতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে। এই চ্যালেঞ্জ শুধু একটি সরকারের নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে সব সরকারের সময়েই বিদ্যমান। গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ, সরকারগুলো মনে করে এই খাতে হাত দিলে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে এগোয়নি। কারণ, এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়—এতে হাত দিলে সংবাদমাধ্যমের মালিক ও সম্পাদকরা সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারেন। তিনি জানান, তিনি নিজেও সরকারে থেকে প্রপাগান্ডা ও ভুয়া তথ্যের শিকার হয়েছেন। তখন তিনি খুঁজে দেখেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে এসবের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়ার মতো কার্যকর কোনো কাঠামো নেই।’

আসিফ মাহমুদ  আরও বলেন, ‘কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে মানবাধিকার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সরকার বদলালেও আগের চর্চা অনেক ক্ষেত্রে থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে অনেক সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন। আবার যারা অতীতে অন্যায় করেছেন, তাদের অনেক সময় উল্টো ‘হিরো’ বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, কারণ প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রক্রিয়া নেই। ফলে কখনো অপ্রাসঙ্গিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আবার প্রকৃত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী রাজনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভয়াবহ অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এ ধরনের হয়রানি মোকাবিলার জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।’

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের হল ‘দখলে’, আবাসনের দাবিতে এবার কর্মব…
  • ০৩ মে ২০২৬
বৈরি আবহাওয়াকেও হার মানাল নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: খাগড়াছড়িতে ফ…
  • ০৩ মে ২০২৬
৫ মে’র শাপলা চত্বর: ঢাকাতেই হত্যা করা হয়েছে ৩২ জনকে
  • ০৩ মে ২০২৬
জনগনের কাছে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাস…
  • ০৩ মে ২০২৬
যে শর্তে দেশে ফিরতে চান সাকিব
  • ০৩ মে ২০২৬
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব
  • ০৩ মে ২০২৬