জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তির © টিডিসি ফটো
বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমর্থনে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তি’। দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার (০২ মে ২০২৬) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরি হলে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ এবং ‘আগামী বাজেটে প্রতিবন্ধী নাগরিকের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। এনসিপি’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্ এবং ছায়া-বাজেট প্রণয়ন কমিটির উপ-প্রধান আবদুল্লাহ আল ফয়সাল।
সভায় বক্তারা বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে শুধুমাত্র দান-অনুদানের দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে রাষ্ট্র ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।'
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ইফতেখার মাহমুদকে আহ্বায়ক, মোঃ সাইফুল হককে যুগ্ম আহ্বায়ক, বাপ্পি সরকারকে সদস্য সচিব, মোছাঃ চেনবানুকে যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন আমজাদ হোসেন, মতিউর রহমান হৃদয় ও মোঃ জহিরুল ইসলাম।
সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ভূমিকা পালন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, জনসচেতনতা সৃষ্টি, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা, সমাজ পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা, নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, নারী-শিশু ও প্রান্তিক প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা, প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো ও সেবায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতির বাস্তবায়ন তদারকি করা।
আলোচনা সভা থেকে আগামী জাতীয় বাজেট ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা ২৫০০ টাকায় উন্নীত করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য তহবিল গঠন, কর সুবিধা সম্প্রসারণ, সহায়ক উপকরণের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ, বেসরকারি খাতে নিয়োগে কর ছাড় বাধ্যতামূলক করা, কর্মসংস্থানের জন্য বাজেট বরাদ্দ, চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি ও কোটা নির্ধারণ, বিশেষ নিয়োগ ব্যবস্থা চালু, গণপরিবহনে ভাড়া ছাড় এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
বক্তারা আরও বলেন, 'প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।'
সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের সকল প্রতিবন্ধী নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকারভিত্তিক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।