এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন © টিডিসি
সরকার প্রথম দিন থেকেই প্রতারণা শুরু করেছে এবং পরে নানা আশ্বাস দিয়ে সেই অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি বলেছেন, ঐক্যমত কমিশনে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সংস্কার বাস্তবায়নের একটি সাধারণ ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে সরকার জানত যে জয়ের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। কিন্তু শপথ গ্রহণের দিনই তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। এটি গণভোটের রায়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল প্রফেশনাল এলায়েন্স (এনপিএ) আয়োজিত ‘গণভোটের রায় এবং সংস্কার বাস্তবায়ন কোন পথে হাঁটছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারও নিশ্চিত করা হবে। সেই আন্দোলনে হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছেন এই প্রত্যাশা নিয়ে যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাবে। ২০২৪ সালের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীরা শুধু তৎকালীন সরকারের অন্যায়, নির্যাতন ও দুর্নীতির সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা সেইসব কাঠামোগত সমস্যাগুলোকেও চিহ্নিত করেছিলেন, যেগুলো একজন ব্যক্তি বা দলকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ দেয়। আমরা শুধু একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরাতে চাইনি, বরং এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছি যেখানে ভবিষ্যতে কেউ ফ্যাসিস্ট হতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের সমালোচনা করা হলেও সেখানে থাকা মৌলিক নাগরিক অধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আপত্তি নেই। বরং সমস্যা সেই জায়গাগুলোতে, যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে একজন ব্যক্তি বা একটি দলের হাতে চলে যায়। ৫ আগস্টের পর যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়, তা কোনো প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আমরা তখন পুরো সংবিধান বাতিল করিনি, আবার সম্পূর্ণভাবে মেনেও নেইনি। কিছু মৌলিক অধিকার আমরা বজায় রেখেছি, কিন্তু স্বৈরাচারী প্রবণতা তৈরি করে এমন অংশগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।