সরকার এমন দুদক চায়, যার কমিশনাররা তাদের নেক নজরের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০ PM , আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩১ PM
তাসনিম জারা

তাসনিম জারা © সংগৃহীত

সরকার এমন দুদক চায়, যার কমিশনাররা তাদের নেক নজরের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য  করেন তিনি। 

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো

সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বাতিল (Lapse) করতে চাইছে। সরকার মূলত দুটি কারণে এই অধ্যাদেশটি বাতিল করতে চাইছে।

প্রথমত, এই অধ্যাদেশে দুদককে প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই অর্থ পাচার বা বড় দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরাসরি মামলা বা এজাহার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সরকার এই ক্ষমতাকে সংবেদনশীল বা Sensitive বলছে।

দ্বিতীয়ত, দুদককে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার জন্য একটি বর্ধিত ও সম্পূর্ণ স্বাধীন বাছাই কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছিল। সরকার বলছে, এটি নিয়ে তাদের আরও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কনসালটেশন প্রয়োজন।

এই দুটি বিষয় নিয়ে আমার মতামত সহজে তুলে ধরার চেষ্টা করি:
১. দেশের কোনো সাধারণ মানুষের একটি মোবাইল ফোন চুরি হলে, তিনি সোজা থানায় গিয়ে সরাসরি এজাহার দায়ের করতে পারেন। পুলিশ সাথে সাথে তদন্ত শুরু করে। সেখানে সরকারের কোনো সংবেদনশীলতা কাজ করে না। কিন্তু যখন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়, ব্যাংক লুট হয়, তখন সরাসরি মামলা করাটি সরকারের কাছে সংবেদনশীল মনে হচ্ছে কেন?

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানের নামে বছরের পর বছর ফাইল আটকে রাখার যে পুরোনো আইনি মারপ্যাঁচ, তা মূলত অপরাধীকে প্রমাণ লোপাট করার এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগই করে দেয়। সরাসরি মামলার ক্ষমতা বাতিল করার অর্থ হলো, রাষ্ট্র সাধারণ চোরের জন্য একরকম আইন রাখছে, আর রাঘববোয়ালদের জন্য রাখছে আরেক রকম!

২. অ্যান্টি-করাপশন বডিকে হতে হয় সরকারের প্রভাবমুক্ত, যাতে তারা সরকারি দলের দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হতে পারে। অথচ সরকার সেই স্বাধীন বাছাই কমিটির গঠনকেই আটকে দিচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, সরকার এমন একটি দুদক চায় যার কমিশনাররা সরকারের নেক নজরের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন। আর যে প্রতিষ্ঠান সরকারের দয়ায় গঠিত হয়, সে প্রতিষ্ঠান কখনোই সরকারি দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।

বিগত সরকারের আমলে বিএনপি বলেছে যে, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন শুধু সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে।’ দুদকের এই নেতিবাচক রেপুটেশন থেকে বের হয়ে আসার জন্য স্বাধীন বাছাই কমিটির কোনো বিকল্প নেই।
দুদককে নখদন্তহীন করে রাখার পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় শুভবুদ্ধির পরিচায়ক হতে পারে না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন।

অধিকতর আলোচনার অজুহাতে আইনটি বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনবেন না। আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইলে পরবর্তীতে সংসদে সংশোধন আনুন, কিন্তু এই কথা বলে প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করে রাখবেন না।

এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে স্কয়ার ফুড, আবেদন শেষ ১২ এপ্রিল
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ওষুধ কিনতে গিয়ে প্রেম, বিয়ের দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার দোকানে ক…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ওষুধ কিনতে গিয়ে প্রেম, বিয়ের দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার দোকানে ক…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
এনএসইউতে সামার ২০২৬ সেমিস্টারের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬