ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো মহিবুর রহমান (২০) © সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো মহিবুর রহমান (২০) নামের আরও এক তরুণের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মহিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। তার বাবা মো. নুরুল আমিন, মা মহিমা বেগম। তিন ভাই, দুই বোনের মধ্যে মহিবুর ছিলেন সবার বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাকে আয়েই চলত পুরো সংসার।
মহিবুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু দালাল তার খবর নিশ্চিত করেনি। পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে নিশ্চিত করে।
এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন ছিলেন। এখন ছাতক উপজেলার আরেকজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানাল পরিবার।
লিবিয়া থেকে রাবারের একটি বোট ২১ মার্চ গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। কিন্তু ভূমধ্যসাগরে গিয়ে সেটি পথ হারায়। ছয় দিন সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকার সময় বোটটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এতে করে খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।
খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনাহারে দুর্বল হয়ে একে একে ২২ জন মারা যান। নিহতদের বেশিরভাগই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। মৃত্যুর পর দুই দিন লাশগুলো বোটেই রাখা ছিল। পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে দালালের নির্দেশে সেগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
২৭ মার্চ, শুক্রবার গ্রিসের উপকূলে পৌঁছানোর পর বোটে থাকা জীবিতদের উদ্ধার করা হলে পুরো ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরদিন শনিবার বিকেলে সুনামগঞ্জে স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে।