অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্য © সংগৃহীত
পাবনা শহরে অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রকে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার ও জড়িতদের আটক করে।
আটককৃতরা হলো- পাবনা পৌর সদরের দিলালপুর কফিলউদ্দিন পাড়া মহল্লার মৃত ইমরান হোসেনের ছেলে আফনান আহম্মেদ আবির (২১), একই এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯), শালগাড়িয়া মহল্লার শরিফুল ইসলামের ছেলে নাজমুস সাদাত নাফি (১৯), দিলালপুর ফায়ার সার্ভিসের পিছনের এলাকার উজ্জ্বল শেখের ছেলে বিশাল শেখ সাদ (২২) ও সুজানগরের আমিনপুর থানার দুর্গাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে সানজিদ হাসান সুপ্ত (১৯)।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেব (১৫) পাবনা পৌর সদরের শিবরামপুর নারিকেল বাগান সড়ক এলাকার প্রলয় দাস রায়ের ছেলে। সে পাবনা মহিম চন্দ্র জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি রাশিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২৩ জুলাই পারিবারিক কারণে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেব। পরে বাড়ি না ফেরায় সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে ২৯ জুলাই পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে পরিবার। জিডি নং-২২১৪।
এরপর জিডি করার দিনই সন্ধান পেয়ে স্বজনরা ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেবকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পাবনা পৌর সদরের দিলালপুর বেলতলা সড়কে আহম্মেদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একদল ব্যক্তি তাদের রিকশার গতিরোধ করে ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেবকে অপহরণ করে। এ সময় অপহরণকারীরা স্বজনের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের দিলালপুর বেলতলা সড়কে শায়েস্তা খাঁর গলি এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেবকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। সেইসঙ্গে অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেবকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় উদ্ধারকৃত ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেবের মা রিতা রাণী দাস রায় বাদি হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযুক্তদের শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।