এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম © টিডিসি
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের আবেদন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এঘটনাকে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য মামলা দায়েরের অপচেষ্টা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেনি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এমন অপচেষ্টা একই সঙ্গে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। আমরা মনে করি, এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়; বরং জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম ও সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অপচেষ্টা প্রমাণ করে, পাঁচ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- মামলা কিংবা ভয়ভীতির মাধ্যমে এই নেতৃত্বকে দমন করতে এই অপশক্তি অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এবং পরাজিত অপশক্তিকে রুখতে আইনি ব্যবস্থা নিন। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এরআগে গত রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পুলিশ হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন জালাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তবে মামলার আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব থাকা ৪২ জনের নামে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিলো ওই আবেদনে। তাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের, আবু বাকের মজুমদার, আব্দুল হান্নান মাসউদ, উমামা ফাতেমা, রিফাত রশিদ, হাসিব আল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী প্রমুখের নাম রয়েছে। বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।