বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস ডা. মিতুর

০৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩১ AM
ডা. মাহমুদা মিতু ও তার স্বামী

ডা. মাহমুদা মিতু ও তার স্বামী © সংগৃহীত

বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু।  বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত আড়াইটার পরে ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি।

ডা. মাহমুদা মিতুর পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো

মা শা আল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। যে কথা কখনো বলা হয়নি সেটা হলো এই ভদ্রলোক আমার ১৫ বছর ৪ মাসের বড়। এজন্য উনি আমাকে বিয়ে করতেও চাননি। কিন্তু বিয়ে তো আল্লাহর নির্ধারিত, ইচ্ছা না থাকায় ও আল্লাহর ইচ্ছায় বিয়েটা সেদিন হয়েই গেলো। তবে সংসারে বড় আমিই হয়ে রইলাম। তারেও পালতে হইল।

আজ ৬ মার্চ (শুক্রবার), আজকে ১৭ বছর শেষ হলো। উনার সাথে ১৮ বছরে পা রাখলাম। বরাবরই আমার বিয়েকে আমি এক কথায় ডিফাইন করি। সেটা হলো, আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্ত ছিলো বিয়ে করা। আমার বিয়ের পরের জীবনের সুখ শান্তির সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমার শাশুড়ির।

ছোট্ট মেয়ে হিসেবে তার ঘরে এসেছি শাশুড়ীও আমাকে অতি আদরে বড় করেছেন। পড়িয়ে লিখিয়ে মানুষ বানিয়েছেন। পাশাপাশি  তিনি নিজেকে এবং তার ৪ ছেলেমেয়েকে এমনভাবে বড় করেছেন যে, ওই শিক্ষায় ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হলে যেকোনো ঘরের মেয়েরা এসে শান্তিতে থাকতে পারবে। আমার শাশুড়ীকে নিয়ে একটা বই লেখা যাবে এবং সেই বই সারা দেশের শাশুড়ীরা পড়লে দুনিয়ার অশান্তি অর্ধেক হয়ে যাবে শিওর।

আমার জীবনে আমি কোনোদিন সাজেক কিংবা কক্সবাজার কিংবা দেশে এবং দেশের বাইরে ট্যুরে যাইনি। কোনোদিন প্ল্যান করে ঘুরতে গিয়েছি মনে পড়ে না। ঘুরতে যাওয়া খারাপ না, অবশ্যই উচিত কিন্তু প্রসঙ্গে বললাম যাতে যারা আফসোস করেন তারা যেন বোঝেন। আমার জীবনে বরের কাছ থেকে কোনো সারপ্রাইজ গিফটও পাইনি, যে্টাকে অহরহ অনে্কেই অনেক বড় করে দেখে। এই সারপ্রাইজের না দেয়া, ঘুরতে না যাওয়ার কারনে সংসারও ভাঙতে দেখেছি। আমি বরাবরই ঘরকুনো। ঘরে বসে বিছানায় বসে দুজন মিলে ফোন চালানোই আমার শখ। অবসরে আমি এই কাজটা করতেই ভালোবাসি। কিন্তু মা শা আল্লাহ আমার জীবনে কোনো অপূর্ণতা নাই। আলহামদুলিল্লাহ এমন কোনো শখ নাই যা আমার স্বামী পূরণ করেনি।আল্লাহ আমাকে দুহাত ভরে মানুষের ভালোবাসা দিয়েছে এবং চারপাশে ভীষণ ভালো ভালো মানুষ দিয়েছেন। 

আমার বর সপ্তাহে একদিন চেম্বার করে। ডাক্তার হিসেবে তিনি যথেষ্ট মেধাবী হলেও টাকার জন্য তিনিও কখনো অতিরিক্ত দৌঁড়াননি। চেম্বার করলে বাচ্চারা সময় পাবে না বলে আমিও কোথাও চেম্বার করতে দেইনি। আমরা পরিবারের সবাই মিলে ইচ্ছেমতো নিজেদের সময় দিয়েছি। দুপুরে ভাতঘুম আর বাবার পিঠে ঘোড়া হয়ে বসে ,বালিশ ছোড়াছুড়ি করে বাচ্চারা বড় হয়ে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।
 
এতে অসুবিধা কিছুটা হয়েছে, ঢাকায় গাড়িবাড়ি আর হয়নি কিন্তু সুন্দর একটা বরকতময় জীবন যাচ্ছে মা শা আল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। তবে ১৭ বছর একসাথে থাকার পরও আপনার পাশের মানুষটিকে নিয়ে আপনার অনেক অজানা থাকতে পারে এর প্রমাণ পেলাম। আমার অসুস্থতার দীর্ঘ রাতগুলো আমার স্বামী জায়নামাজে কাটিয়েছেন। সারারাত আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কান্নাকাটি করেছেন। তার এই চেহারাটা আমার কাছে নতুন। আল্লাহ তাকে তার রহমতের চাদরে আবৃত রাখুন।
 
শরীর খারাপের কারণে মাথা কেমন করে পুরো লাইন লিখতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যায়। তাই আর লিখলাম না। কি কি যেন লিখতে চেয়েছিলাম। 
অসুস্থ না হলে হয়তো এসব শেয়ারও করতাম না। আল্লাহ আমাকে যেন নজর থেকে হেফাজতে রাখেন। আমি এবং আমার পরিবারের সবাই যেন সুস্থ থাকে। আমি যেন দেশ ও জাতির জন্য, মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে পারি আমার জন্য এই দোয়া করবেন। Happy anniversary আমার ভালো স্বামী। আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। আল্লাহ তোমাকে এবং তোমার বাচ্চাদের এবং পরিবারের সবাইকে ভালো রাখুন। দুনিয়া এবং আখিরাতে সম্মানিত করুন। আল্লাহুম্মা বারিক লাহা।

দুই বছরেও বিচার নেই, শহীদ আহসান হাবিবকে স্মরণ করে স্বজনদের …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
জুলাই দিবসের অনুষ্ঠানে আ.লীগের দুই নেতা, দাওয়াত পায়নি ছাত্র…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
যে ৫ কারণে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিততে পারে আর্জেন্টিনা
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
১০ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
তাপপ্রবাহে বেলজিয়ামে ১৫ দিনে প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
জামালপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের আগুন
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence