জাতীয় সংসদ ভবন © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের সামনে রয়েছে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ। তার নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকার।
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ও বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিদের শপথকে সামনে রেখে দেশের সচেতন মহলের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে- কেমন হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা? সেখানে কারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন? তরুণদের কাউকে সেখানে রাখা হবে কি না তা নিয়েও কৌতুহলের অন্ত নেই।
এখন পর্যন্ত সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি বিএনপি। তবে ধারণা করা হচ্ছে তারেক রহমানের সরকারের আকার পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় 'অনেকটাই ছোট' হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের কাজ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা সহজ করতে গঠন ও আকৃতিতে পরিবর্তন এনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনতে পারে বিএনপি। বিএনপি'র নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির সেসব নেতারা নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে নবীন ও প্রবীণের মিশেলে গঠিত হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া ভোটে জয়ী হওয়া সমমনা অন্য দলগুলোর নেতাদের মধ্যেও অনেকে সেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপি'র সিনিয়র নেতারা। পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বর্তমানে সরকার কাঠামোতে ৪৩টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। এবারের মন্ত্রিসভায় এ সংখ্যা কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার কথা ভাবছে বিএনপি। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ভেঙে আলাদা করা মন্ত্রণালয়গুলোকে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেন তারেক রহমান। এছাড়া একই খাতে কাজ করছে এমন একাধিক মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে ফেলা হতে পারে। যদি এমনটি হয় তাহলে সড়ক পরিবহন ও রেল একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলে আসতে পারে।
নতুন মন্ত্রিসভায় দুই ডজনের মতো পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন বিএনপি'র সিনিয়র নেতারা।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীন নেতাদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তুলনামূলক ক্লিন ইমেজ ও অতীতে সফলভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন- এমন অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে। অন্যদিকে, অনভিজ্ঞ মেধাবী তরুণ নেতাদেরকে উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
প্রবীণ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও কয়েকজন।
নারীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নাম আলোচনায় রয়েছে। শামা ওবায়েদ এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।
এছাড়া তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ইশরাক হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর পাশাপাশি মিত্র দল থেকে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে বিজয় লাভ করা প্রতিনিধিদের কয়েকজনকেও প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩) এবং শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১)।
এর পাশাপাশি বিগত সময়ে বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি আন্দালিভ রহমান পার্থ (বিজেপি), জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন) এবং নুরুল হক নুর (গণ অধিকার পরিষদ)-কে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
এছাড়া মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া প্রবীণ নেতাদের কেউ কেউ জায়গা পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা আসলে কেমন হতে যাচ্ছে তা জানা যাবে শপথ অনুষ্ঠানের দিন। [বিবিসি বাংলা অবলম্বনে]