সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ভিপি কথা বলছেন © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট জয় লাভের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি (সহ-সভাপতি) সাদিক কায়েম বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩টি লাশ পড়েছে। শতাধিক হামলার ঘটনা আমরা তালিকাভুক্ত করেছি। অথচ জুলাই বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য।
‘‘কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা এখনো সেই একই মারামারি-হানাহানির রাজনীতি দেখতে পাচ্ছি। যারা নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের অবশ্যই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমরা আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তা বরদাশত করা হবে না।’’
আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, যেভাবে হুমকির রাজনীতি শুরু হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত। আমরা একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকারকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বসে দ্রুত সমাধান বের করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারা দেশে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, যা পুরো জাতিকে হতাশ করেছে। ক্ষমতা দেখিয়ে হল দখল বা হুমকির রাজনীতি আর চলবে না। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের এক দিন পর থেকেই ১১-দলীয় জোটের শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আগে যেভাবে মিডিয়ায় প্রচার করা হতো, এখন আর সেভাবে প্রচার করা হচ্ছে না।
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জসহ শতাধিক এলাকায় জামায়াত-শিবিরের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করছে। আমরা আশা করি, তাঁরা আওয়ামী লীগকে কপি করবেন না। বিরোধী দলকে হামলা-মামলার মাধ্যমে হয়রানি ও অত্যাচার করবেন না এবং আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না। নির্বাচনের পর যত দ্রুত বিএনপি হামলা-সন্ত্রাস শুরু করেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগও তা করেনি।