রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি), অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর আপোষহীনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ ভোট গ্রহণ হয়। এখন চলছে ভোট গণনা। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো দিনশেষে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। অপেক্ষায় দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ পর একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেয়ার অপেক্ষায় দেশের ২০ কোটি জনগণ।
এদিকে, নির্বাচনে ‘বিজয়ে’র ব্যাপারে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। দলটির হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম প্রহরের শুরুর দিকে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। ভোট দিয়ে তিনি তার পরিবারকে নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে আসলে দেশি-বিদেশী শতাধিক মিডিয়া ঘিরে ধরে। তারেক রহমান সাবলীলভাবে কথা বলেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেন।
এ সময় ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি তার গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসায় চলে যান। কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ভোটের বিষয়ে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস প্রত্যক্ষ করেন। পরিদর্শনের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। এ সময় বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র তথা ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, কড়াইল, পান্থপথ, ভাষানটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোবহানবাগ, বনানীর বিদ্যা নিকেতন পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয় গিয়ে সারাদেশের ভোটের তদারকি করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বিএনপির বিজয়ের ব্যাপারে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমরা আলহামদুলিল্লাহ, আমরা কনফিডেন্ট। আমরা আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে।
বিএনপি বিজয়ী হলে ‘আন্দোলনরত দলগুলো নিয়ে সরকার গঠনে’র কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা বলেছি যে, আমরা যে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা চাই আমরা কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে।
কত আসনে বিএনপি বিজয়ী হতে পারে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমরা অন্তত এতটুকু অবশ্যই প্রত্যাশা করছি, যেখানে আমরা খুব সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হব।
ভোটের ফলাফল ঘোষণা দেরির কোনো কারণ নেই মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ফল গণনা কেনো দেরি হবে? দেরি হবার কোন কারণ নাই। আমরা সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে একটি দ্রুত তাদের যে ভোট দিয়ে এসেছে তার ফল তারা দ্রুতই চাইবে। আমরা আশা করব যে, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যাতে দেশের মানুষ দ্রুত তার প্রদান ভোট প্রদানের যে ফল সেটা মানুষ পায়। আমরা প্রত্যাশা করব টাইম ফ্রেমের মধ্যেই জনগণ রেজাল্ট জানতে পারবে।
ভোটের ফলাফল মেনে নেয়ার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ হয়, নির্বাচন যদি বিতর্কিতহীন হয় তাহলে অবশ্যই কেনো মেনে নেব না… সব দলই আমরা মেনে নেব। কিন্তু অবশ্যই একটি শর্ত আছে যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে হবে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে হবে।
এদিকে, ভোটগ্রহণ শেষে বিকালে গুলশানে বিএনপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দেশের জনগণ যে আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, ইনশাল্লাহ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত সরকার সেটি আন্তরিকভাবে প্রতিপালন করবে। গণতন্ত্রকামী জনগণকে উদাত্ত আহ্বান জানাই, ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য সজাগ থাকবেন। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যারা ভোট পরিচালনার সঙ্গে রয়েছেন, তারা যেন সঠিক গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো অসংগতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ধানের শীষের জোয়ারে বিএনপির বিজয়, গণতন্ত্রেরই বিজয়। বাংলাদেশের বিজয় আসন্ন, ইনশাআল্লাহ।