ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন নারীরা © টিডিসি
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৬০৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সকাল থেকেই সদর, কলারোয়া, তালা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, আশাশুনি ও দেবহাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। অনেক কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুলিশ লাইন্স বিদ্যালয় মাঠ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকালেই ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। কেন্দ্রটিতে মোট ৩ হাজার ৬৫ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৪৩০ জন এবং নারী ১ হাজার ৬৩৫ জন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলতে দেখা যায়।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ ৩২ হাজারের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ১৭ হাজারের বেশি, নারী ভোটার ৯ লাখ ১৪ হাজারের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন। নতুন ভোটার রয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণও এবার উল্লেখযোগ্য, যা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৭২টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের জন্য ১ হাজার ৫৫৩টি এবং নারী ভোটারের জন্য ১ হাজার ৮১৯টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ে সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। চারটি আসনে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ১০ হাজার ৮৩৯ জন প্রিজাইডিং, সহকারী ও পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, এবারই প্রথম জেলার সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ৬০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা রয়েছে। চারটি আসনে মোট ১১ হাজার ১৮৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত রয়েছেন। কেন্দ্রপ্রতি ১৬ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে চারজন সদস্যের কাছে অস্ত্র রয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নারী ভোটার মোছা. রোজিনা বেগম বলেন, ‘সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাসায় গিয়ে রান্না করব, তাই একটু তাড়াতাড়ি এসেছি। সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পারছি, ভালো লাগছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কষ্ট হলেও ভালো লাগছে।’
নতুন ভোটার সুমাইয়া জাফরিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জীবনে প্রথম ভোট দিতে পারছি। রোদে একটু গরম লাগছে, তবে ঈদের মতো আনন্দ লাগছে।’
অনেক নারী ভোটার দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জেলার চারটি আসনে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।