হাসনাতকে রুখতে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ © টিডিসি সম্পাদিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে রুখতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৭ জানুয়ারি ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিলের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থিতা বাতিলের পর কয়েকদিন নীরব থাকলেও গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপির সমর্থকরা ২০ দলীয় জোটের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে মাঠে নামেন।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর ঈদগাহ মাঠে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের অর্থ পাচারকারী ও ব্যাংক লুটেরাদের দিন শেষ হয়ে আসছে। যারা মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে বিলাসী জীবনযাপন করছে, সেই ঋণখেলাপিদের বাংলাদেশের সংসদে আর জায়গা দেওয়া হবে না। আগামী দিনের সংসদ পরিচালিত হবে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হাসনাতের দেওয়া এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তার প্রতিপক্ষকে জেতাতে মাঠে নেমেছেন একই আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। সূত্র জানায়, নিজ ইউনিয়ন বরকামতা, মোহনপুরসহ আশপাশের পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
আরও জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আবুল কালাম আজাদ ‘ট্রাক’ প্রতীককে জয়ী করতে থানা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। অনলাইন গ্রুপে বার্তা দিয়ে জানানো হয়—ট্রাক জয়ী হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সকল মামলা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।
সূত্র জানায়, তার দেওয়া এমন নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী সমর্থকরো সে অনুযায়ী কাজ করছেন।
এদিকে সরেজমিনে কুমিল্লা–৪ আসনের কয়েকজন নারী ও পুরুষ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে আবুল কালাম আজাদ এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তাদের দাবি, ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের বিনিময়ে ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার প্রস্তাব করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভোটার বলেন, ট্রাক মার্কা ভোটের আগের দিন রাতে তিন হাজার টাকা করে দেবে।
আরেক ভোটার বলেন, আমি প্রচারণায় গিয়েছিলাম, আমাকে দেড়শ টাকা দিয়েছে। ভোটের আগে আড়াই হাজার টাকা দেবে বলেছে।