নোয়াখালীতে স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে © টিডিসি
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি আংশিক) নির্বাচনী আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী কাজী মফিজ ও ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পৃথকভাবে এই দুই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, স্বতন্ত্রপ্রার্থী কাজী মফিজ আজ বিকালে কাবিলপুর ইউনিয়নে প্রচারণা চালাতে গেলে তার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পর্যন্ত কারা এ হামলার সাথে জড়িত সেটি জানা যায়নি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, কাবিলপুর ইউনিয়ন থেকে কাপ পিরিচের গণসংযোগ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত কাজী মফিজের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুলি ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেন স্বতন্ত্রপ্রার্থীর সমর্থকরা।
আরও পড়ুন : ৭ জনকে দলে ফিরিয়ে ১৮ জনকে বহিষ্কার বিএনপির
কাজী মফিজ তার ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘আজকে যে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটির নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। তারপরও নির্বাচনের স্বার্থে, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক সেটার জন্য আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আমার নেতাকর্মীরা কেউ যেন বিশৃঙ্খলা না করে এটা আপনাদের প্রতি অনুরোধ। কেউ যদি কোনো কিছু নিজ ইচ্ছায় করে থাকেন এর দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। আর ধানের শীষের কেউ যদি করে থাকেন তাহলে সেই দায়ভার আপনাদের।’
এদিকে আজ রাত ৮টার দিকে সেনবাগ বাজারে জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনবাগ বাজারে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর বিভিন্ন বাজারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন : পা ধরে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইলেন যুবদল নেতা
বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকযুক্ত গাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রচারণার গাড়িতেও হামলা করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে। গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং গুলির শব্দও শোনা যায়নি। বিএনপি প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, গুলির খবর জানি না। তবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের বিষয়টি শুনেছি। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।