চায়ের আড্ডায় জাইমা রহমান

শুনলেন তরুণদের প্রত্যাশা-স্বপ্নের কথা, গুরুত্ব দিলেন নারীদের নিরাপত্তায়

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩০ AM
চায়ের আড্ডায় জাইমা রহমান

চায়ের আড্ডায় জাইমা রহমান © সংগৃহীত

চায়ের আড্ডায় তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা, মতামত ও বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার কথা শুনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্য ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। 

সোমবার বিকালে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস খেলার মাঠে এই চায়ের আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এতে ৬ টি গোল টেবিলে বসেন অংশগ্রহণকারীরা। জাইমা রহমান প্রতিটি টেবিলে গিয়ে তাদের সঙ্গে বসে কথা বলেন ও তাদের কথা শোনেন। বিকাল সোয়া ৩ টার দিকে শুরু হয়ে এই আড্ডা চলে প্রায় দুই ঘন্টা। 

তরুণ-তরুণীদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা শোনার জন্য ব্যাতিক্রমধর্মী 'চায়ের আড্ডা' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কন্টেন্ট জেনারেশন টিম।

আড্ডায় একজন নারী শিক্ষার্থী বলেন, অনলাইন ও পাবলিক স্পেসে আমাদের অনেক হেনস্তার শিকার হতে হয়। নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যদি বাড়তি নজর দেয়া যায়, তাহলে ভালো হবে।

তখন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা আমাদের এক নাম্বার প্রায়োরিটি। আমাদের দেশের প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাদের নিরাপত্তা, কথা বলার অধিকার যদি না থাকে তাহলে...। তাদের বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমতাবলম্বন ও সমাজের উন্নয়নে অংশগ্রহণ নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ঢাকা শহর সম্পর্কে জানতে চান। তখন একজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যান্টমেন্টের ভিতর যানবাহন সব সুন্দরভাবে চলে। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পর সব এলোমেলো হয়ে যায়। তো ট্রাফিক ব্যবস্থা যখন ভালো হবে, রাস্তায় শৃংখলা আসবে তখন মনে হবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের চাওয়া। 

তখন জাইমা রহমান বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় এটা (বিশৃংখলা) দীর্ঘ সময় ধরে চলে এসেছে।

আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা একটু নির্মল ঢাকা দেখতে চাই। যানজট মুক্ত ঢাকা দেখতে চাই। যেখানে প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে পারবো।

তখন জাইমা রহমান বলেন, এখন শীতের সময়। এসি কম চলছে। কিন্তু গরমের সময় সবগুলো এসি যখন চলবে তখন বাতাসের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাবে। গাছপালা অনেক কমে গেছে। খালগুলোও খনন করা হয়নি। খাল-বিলগুলো মেরামত করা, পার্কগুলোতে সংস্কারসহ শহর পরিষ্কার রাখতে হবে সবার জন্য। একই সঙ্গে দূষণ রোধ করার জন্যও। শহরে ফ্লাইওভার করা হয়েছে, কিন্তু নিচ দিয়ে যে মানুষ পার হবে ওরকম ব্যবস্থা করা নাই। রাত হলে, মনে হয় অনেক ঝুকিপূর্ণ জায়গা হয়ে ওঠে।

জাইমা রহমান জানতে চান বেসরকারি ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোলাবরেশন হয় কিনা? তখন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলেন, এটা তো হয়ই না। বরং অনেক দূরত্ব রয়েছে। এখনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দুইটি আলাদা দুনিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেগলেক্ট করা হয়। মনে করা হয়, যে দেশের পলিসি মেকিংয়ে তারা কিছুই পারবে না। এমনকি জুলাই আন্দোলনে আমাদের গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখার পরও!

তখন জাইমা রহমান বলেন, এটা হয়তো নতুন প্রজন্মকে দিয়েই পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। আমরা সবাইকেই সমান ভাবি।

জাইমা রহমানের কাছে শিক্ষার্থীরা জানতে চান তিনি কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? তখন তিনি বলেন, এটা খুবই কঠিন প্রশ্ন। ছোট বেলা আমি দেশ থেকে চলে গিয়েছিলাম। ১৭ বছর পর এসেছি। কিন্তু দেশের খোঁজ রাখতাম। প্রধানত আপনাদের মতো উৎসাহী-মেধাবী তরুণরা যারা আছেন, এটা আমি নতুন ভাবে দেখছি। খবরের কাগজ বা  টিভিতে খুব বেশী অন্যদের হাইলাইটস করা হয় না। কিন্তু আপনাদের মধ্যে এতো আইডিয়া আছে, অনেক কিছু করার ইচ্ছে আছে, সেটা দেখে খুব ভালো লাগছে। আমি চাচ্ছি বাংলাদেশ যেনো সবার জন্য হয়। বিভিন্ন ধরণের মানুষ তাদের মত, আদর্শ তুলে ধরবে, সেই স্বাধীনতা যেনো থাকে। বাংলাদেশে সব সময় বিভিন্ন ধরণের মানুষ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আইডিয়ার মানুষ বাস করেন, ওইটা যেনো আমরা হারিয়ে না ফেলি। এই ধরণের বাংলাদেশই আমি দেখতে চাচ্ছি।

আড্ডায় জাইমা রহমান বলেন কম, কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে শোনেন বেশী। আলোচনায় বিড়াল তথা প্রাণীদের বিষয়টিও উঠে আসে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষার কথা শোনেন এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা  প্রকাশ করান। আলোচনায় তিনি উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে  কথা বলেন ও শোনেন।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে না বসে এবং বক্তব্য না দিয়ে উপস্থিত তরুণদের সঙ্গে হেটে-হেটে কথা বলেন। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে চা, চটপটি, জিলাপি ও ঝালমুড়ি উপভোগ করেন জাইমা। 

আড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড, নর্থ সাউথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কারিকুলামে বড় পরিবর্তন আসছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
  • ২০ মে ২০২৬
পাবনায় ডিবির অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য আটক
  • ২০ মে ২০২৬
গোবিপ্রবিতে নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের লেকপাড়ের সৌন্দর্য
  • ২০ মে ২০২৬
এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২০ মে ২০২৬
ইয়াবা বিক্রির সময় বিএনপি নেতাকে হাতেনাতে আটক পুলিশের
  • ২০ মে ২০২৬
চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না: ডিএমপি …
  • ২০ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081