ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

সেই ‘দুখিনী মা’য়ের সম্মানে সুবর্ণচরকে পৌরসভায় উন্নীত করবে জামায়াত

৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১২ PM
নোয়াখালীতে নির্বাচনী জনসভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির

নোয়াখালীতে নির্বাচনী জনসভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির © সংগৃহীত

ক্ষমতায় গেলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় স্বামী সন্তানকে বেঁধে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্মরণে নোয়াখালীর সুবর্ণচরকে পৌরসভায় উন্নীত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জাময়াত আমির বলেন, ‘সুবর্ণচরে একজন দুখিনী মা, যাকে হায়েনারা কষ্ট দিয়েছিল ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে, ওই মায়ের সম্মানে সেখানে আমরা নির্বাচিত হলে পৌরসভা করব ইনশাআল্লাহ।’

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে নোয়াখালীবাসীর প্রাণের দাবিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি নোয়াখালীর উন্নয়নে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবির কথা উল্লেখ ক বলেন, ‘নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের দাবির পাশাপাশি হাতিয়া-কোম্পানীগঞ্জ-সুবর্ণচর নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, কোম্পানীগঞ্জ-ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে।’
 
যুব সমাজ ও বেকারত্ব নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না, আমরা দেশ গড়ার কারিগরের হাত গড়ে দিতে চাই। ১১ দলের প্রার্থীদের অধিকাংশের বয়স ৪৫-এর নিচে, যা বার্তা দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ হবে যুব সমাজের।’ তিনি বলেন, ‘সেদিন প্রত্যেকটা যুবক-যুবতী বলবে, আমিই বাংলাদেশ। আমাকে দেখে নাও বাংলাদেশটা কেমন।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যার গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে (তৎকালীন বয়স ৩২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার ওই নারী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই একই এলাকার চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের শিষ্য।তারা সবাই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। ভোটের দিন আসামিরা তাকে নৌকায় ভোট দিতে বলেন। তিনি তাতে রাজি না হলে এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে যুবকেরা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর ওই দিন রাতে বাড়িতে গিয়ে তারা মারধর ও ধর্ষণ করেন।

পরে দীর্ঘ ৫ বছরের বিচারকার্য শেষে এই মামলায় ১০ অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ও জরিমানা না দিলে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়।

শার্শার বাজার-ঘাটে চাঁদাবাজি রুখতে এমপি আজীজুরের হুঁশিয়ারি
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিমানের সাবেক এমডির জবানবন্দিতে প্রথমে সম্মতি, পরে অস্বীকৃত…
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মানুষ ডাক্তারের পেছনে ঘুরবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে…
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির লোক থানায় নিতে পারবেন না—পুলিশকে ছাত্রদল নেতা
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন মালোয়েশিয়ার প্…
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুবি শিক্ষার্থীকে রক্তাক্তে জড়িত সেই ছাত্রদল নেতার পদ স্থগি…
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬