বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লগো © সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের প্রতি হুমকি ও দমন-পীড়নের হিংসাত্মক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটির মহিলা বিভাগ। আজ মঙ্গলবার ( ২৭ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষে সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এ বিবৃতি দেন। এর মাধ্যমে এই প্রথম মহিলা জামায়াতের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এলো।
সম্প্রতি বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া একটি জনসভায় বলেন, ‘জামায়াত ইসলামীর ও ছাত্রী সংস্থার মহিলা কর্মীরা আপনাদের বাসায় গেলে ৯৯৯ এ ফোন দিবেন, পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দিবেন।’ তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিবৃতি দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার (পাপিয়া) এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দের এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের ফলে সারাদেশে বোনদের উপর আক্রমণ ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে- এটা চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্র বিরোধী। এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সমান অধিকার সকল দলের রয়েছে। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশী হয়রানি, গ্রেফতার ও দমন-পীড়নের হুমকি প্রদান গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ ধরণের বক্তব্য একটি ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় শক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত বহন করে, যা কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ ও ছাত্রীসংস্থা সংবিধান স্বীকৃত অধিকার অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হুমকিতে আমরা আমাদের ন্যায্য ও আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হব না, ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও বিবৃতির মাধ্যমে পাপিয়ার দেয়া এমন বক্তব্যের জন্য তাকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। একইসাথে সকল প্রকার দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়েছে।