তারেক রহমানের সঙ্গে আড্ডায় বিজয়ীরা © সৌজন্যে প্রাপ্ত
তরুণদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আড্ডা ও মতবিনিময়ে দেশ গঠন নিয়ে নিজের ভাবনা-পরিকল্পনার তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই আড্ডায় তরুণদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার খোলামেলা জবাবও দেন তিনি। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ‘আমরা ভাবনাং বাংলাদেশ’শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সঙ্গে গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে এই আড্ডায় বিএনপি চেয়ারম্যান তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এসময় তার পাশে ছিলেন একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কের উন্মুক্ত স্থানে এই সাক্ষাতের আয়োজনটি করা হয়। জাতীয় রিল-মেকিংয়ের ১০ জন বিজয়ীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে কথা বলেন তারেক রহমান। বিজয়ীরা তাদের নানা জিজ্ঞাসা তারেক রহমানকে করেন এবং খোলামেলা জবাবও দেন তিনি।
ফ্যামিলী কার্ড কারা পাবে, স্বামী হারা নারীরা কী ফ্যামিলী কার্ড পাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেন, সিঙ্গল মাদার ব্রাইড যারা বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে আছেন, স্বামী ছেড়ে গেছেন…দেখুন, আপনি যদি দেখেন আমার ধারণা আছে বাংলাদেশ গভমেন্টের এই সোশ্যালসেফটির আওতায় ১৩৮ টি প্রজেক্ট চালু হয়েছে, বিভিন্ন মিনিস্ট্রি বা ডিপার্টমেন্ট সেগুলা কাইন্ড অফ হেফাজত ভাবে চালু আছে। এগুলো ঠিক নাই। আপনার রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে...একজন তিনটা সাপোর্ট করছে আরেকজন একটা পাচ্ছে না। আমরা এই জিনিসটাকে একটু অর্গানাইজ করতে চাইছি থ্রু ফ্যামিলি।আমরা এটাকে ইউনিভার্সালির জন্য রেখেছি। যেমন একজন কৃষকের স্ত্রীও পাবেন, একজন ভ্যান চালকের স্ত্রী উনিও পাবেন, আরেকজন অফিশিয়াল তার ওয়াইফও পাবেন। কিন্তু আমার ধারণা যেমন আপনি হয়ত পাবেন। কিন্তু আমার ধারণা আপনি নিশ্চয়ই জিনিসটা ১৯৩৮টা সেফটিনেস যেভাবে লেভেলটাকে যত সম্ভব কম রাখছে, করাপশন লেভেলটাকে যতটুকু সম্ভব কম রাখা উচিত।
আরও পড়ুন: বিএনপির ‘রিল মেকিং’ প্রতিযোগিতায় ফাতিহা আয়াতসহ যে ১০ জন জয়ী হলেন
অনলাইনে নানা নিপীড়নের বিষয়ে মিডিয়া কথা বলেন না, কেউ কথা বলেন না…আইনে কি আছে তাও জানি না এই বিষয়ে নিজের জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব কি হতে পারে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, জিনিসটাকে আমরা এভাবে দেখি। আমাদের এডুকেশন নিয়ে যে রিলটা বানিয়েছেন আপনারা ওখানে কিন্তু দুইটা দিক আছে। ওখানে আপনারা বলেছেন যে, প্রাইমারি লেভেল থেকে আমরা কতগুলো কাজ করছি। দেখেন, আমি একটা ঘটনা বলি। ঘটনাটা কি? আমার পরিচিত আমাদের পরিচিত একটা ফ্যামিলি। তো ওদের একটা ছেলে আছে ১২/১৩ বয়স। এটা আমি আরো পাঁচ ছয় বছর আগের কথা বলছি। একদিন ওর বাবার সঙ্গে গাড়িতে উঠেছে, ফর সাম রিজন ওর বাবা সিট বেল্ট লাগায়নি।
আপনি যে সমস্যার কথা বললেন এই যে এখন সাইভার বুলিং, এসিডের ঘটনা, আমরা যদি বাচ্চাদেরকে ছোটবেলা থেকে যদি শেখাই দিস ইজ রং দিস ইজ রাইট, দিস ইজ রাইট, দিস ইজ ব্ল্যাক, দিস ইজ হোয়াইট এভাবে যদি বাচ্চাদেরকে আমরা শিখাতে পারি আমার ধারণা একটা বাচ্চার যখন একটা স্টেজে পৌছাবে তখন কিন্তু মাথার মধ্যে এই জিনিসটা ঢুকে যাবে যে কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায়, কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক।
তিনি বলেন, ছেলে বলছে বাবা তুমি সিট বেল লাগাও। বলে যে, না অল রাইট। ছেলেটা বললো, তুমি সিট বেল্ট না লাগালে টিচার বলেছেন, আমি নেমে যাব। অর্থাৎ দেখেন এটাকে আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, এই যে সামাজিক মূল্যবোধ, এই জিনিসগুলো আমাদের স্কুলের শেখাতে হবে এবং সেই জন্যই কিন্তু আমরা প্রাইমারি এডুকেশন জোর দিতে চাচ্ছি বেশি। জোরটাকে নট মেকিং স্কুল বিল্ডিং…নতুন নতুন তিন তলা-চার-পাঁচ তলা স্কুল বিল্ডিং এটা আমাদের লক্ষ্য। বরং ওই বাজেটটা দিয়ে আমরা আমাদের প্রাইমারি টিচারদেরকে মোর কোয়ালিফাই করতে চাচ্ছি, ট্রেনিং দিতে চাচ্ছি। যেই ট্রেনিংটার মধ্যে একাডেমিক ট্রেনিং থাকবে, একই সঙ্গে সামাজিক এবং ধর্মীয় যে মূল্যবোধগুলো আছে এই জিনিসগুলো বাচ্চাদেরকে শেখাব।
তারেক বলেন, আপনি যে সমস্যার কথা বললেন এই যে এখন সাইভার বুলিং, এসিডের ঘটনা, আমরা যদি বাচ্চাদেরকে ছোটবেলা থেকে যদি শেখাই দিস ইজ রং দিস ইজ রাইট, দিস ইজ রাইট, দিস ইজ ব্ল্যাক, দিস ইজ হোয়াইট এভাবে যদি বাচ্চাদেরকে আমরা শিখাতে পারি আমার ধারণা একটা বাচ্চার যখন একটা স্টেজে পৌছাবে তখন কিন্তু মাথার মধ্যে এই জিনিসটা ঢুকে যাবে যে কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায়, কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক।
তিনি বলেন, তখন ধীরে ধীরে ধীরে এই বাচ্চাগুলা তো যখন প্রাইমারি যখন দ্বাদশ শ্রেণী পার হবে তখন কিন্তু তারা সমাজের প্রিমিয়াম পার্ট হবে তখন সমাজের বিভিন্ন জায়গায় তারা আস্তে আস্তে ঢুকবে। সেটা ব্যবসা-বাণিজ্য হোক চাকরি-বাকরি হোক বিভিন্ন জবে যাবে তখন ওই যে সমাজিক মূল্যবোধ ওরা কিন্তু আস্তে আস্তে এ্যাপ্লাই করা শুরু করবে।
সহধর্মিনী জোবায়দা রহমানের সঙ্গে নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে তারেক বলেন, একদিন আমি এবং আপনার ভাবি আমরা যাচ্ছিলাম, আমি ড্রাইভ করছিলাম উনি পাশে বসে ছিলেন। সাধারণত গাড়িতে উঠলে আমরা গান শুনি ওইদিন আমরা বিবিসির একটা প্রোগ্রাম শুনেছিলাম, ওখানে বিবিসি একটা সাবজেক্ট নিয়ে আলোচনা করেছিলো সেটা হচ্ছে তারা একটা রিসার্চ করেছিল এ ধরনের সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে। তারা দুইটা গ্রুপ একটা গিয়ে কিছু বাচ্চাদেরকে শিখিয়েছে এবং আরেকটা গ্রুপ গিয়ে কিছু গার্জিয়ানদেরকে শিখিয়েছে।
তিনি বলেন, যখন রিসার্চটা শেষ হলো রেজাল্ট যেটা পাওয়া গেলো যেখানে বাচ্চাদেরকে শিখিয়েছে ওখানে দেখা ওই ফ্যামিলিতে ইমপ্লিমেন্টেশনটা ভালো হবে। আর যেখানে গার্জিয়ানদেরকে শিখেছে সেখানে গার্জিয়ানরা একটু গা ছাড়া ভাব। তার মানে ব্যাপারটা হচ্ছে যে, বাচ্চাদেরকে যখন শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে এটা ভালো এটা মন্দ বা এটা এইভাবে করতে হবে, ওটা ওইভাবে করতে হবে, সকালে উঠে দাঁত বাস করতে হবে। এরকম জিনিসগুলো যখন শিখিয়ে দিচ্ছে। বাবা মা যখন করছে না বাচ্চারা ক্যাম্পেইন করছে। না এটা এভাবে করতে হবে। আমি শিখে এসেছি। তো আমাদেরও এই বিষয়গুলো এরকমভাবে করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে সমাজে বা দেশে যেভাবে আমরা বলি প্রথম পথ দেখায় কে একটা ছোট বাচ্চা? প্রথম পদ দেখায় প্রাইমারি শিক্ষক, উনি কিন্তু একটা বাচ্চাকে দুনিয়া শেখান, দুনিয়া চেনান-জানান। কাজেই উনি যখন তাকে জিনিসটা শেখাবে মূল্যবোধটা বলে শেখাবে। ওটা বাচ্চাটার মনে রাখে। বিষয়টাকে নিতে হবে। এভাবে আস্তে আস্তে আমাদেরকে পরিবর্তন আনতে হবে।
বাচ্চারা মোবাইলের ওপর আসক্তি হয়ে নেগেটিভ জিনিসগুলো দেখে সেক্ষেত্রে কী করা যায় একজন প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, এখানে কাজ করার আছে। আমাদের পরিকল্পনাটা আমি আপনাদের সামনে ব্রিফ করে তুলে ধরছি…দেখুন, আব্বার (জিয়াউর রহমান) সময় নতুন কুঁড়ি নামে একটা অনুষ্ঠান ছিল। এটা অবশ্য বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার আবার চালু করেছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনায় আমাদের স্পোর্টস নিয়ে একটা পরিকল্পনা আছে। স্পোর্টসের পরিকল্পনা আমরা বলেছি, আমরা নতুন কুঁড়ির সঙ্গে স্পোর্টসটা যুক্ত করতে চাইছি।
তিনি বলেন, আপনি নিজেই বলেছেন আপনার রিলে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’এ। দেখুন, একটা বাচ্চা যখন ছয় বছর, সাত বছর, আট বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর, ১৮ বছর আমরা সবাই এই স্টেজটা পার হয়ে এসেছি। এই স্টেজে কিন্তু মানুষের শারীরিক এবং মানসিক অনেক এনার্জি থাকে। তো আপনাকে তো এনার্জিটাকে বার্ণ করতে হবে। আপনাকে যদি সঠিক জায়গা দেওয়া হয় তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় বার্ণ করবেন, আর আপনাকে যদি সঠিক জায়গা না পান তাহলে বেঠিক জায়গায় আপনি বার্ণ করবেন এবং সেই জন্যই আমরা নতুন করে নতুনকুড়ি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এই দুটো আমরা চালু করতে চাইছি। আমরা আমাদের এডুকেশন সিস্টেম টাকে যেটা যেভাবে সাজাতে চাইছি।
স্কুল পর্যায় সিলেবাসে ক্রীড়া, তৃতীয় ল্যাংগুয়েজ, আবৃত্তি, কলা, গান, শিল্প-সংস্কৃতি বিষয় যুক্ত করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তারেক বলেন, আপনি যখন একটা বাচ্চাকে এই জায়গায় ব্যস্ত করে তখন কিন্তু ওই যে ইন্টারনেট ঢুকে ব্রাউজ করে এটা কিছুটা হলে তাকে এদিকে সময় দিতে হবে তো। কারণ পাশ ফেলের ব্যাপার আছে। আমরা ইনশাআল্লাহ গভমেন্ট ফর্ম করলে আমরা এডুকেশন মিনিস্ট্রি, কালচারালমিনিস্ট্রি, সাইন্স এন্ড টেকনোলজি মিনিস্ট্রি, স্পোর্টস মিনিস্ট্রি এই চারটা মন্ত্রলালয়কে একটি টিম করে কাজ করব। আগে যখন আমরা ছোট ছিলাম পত্রিকা খুললেই আমরা দেখতাম, বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে স্পোর্টস কম্পিটিশন হচ্ছে, কালচারাল কম্পিটিশন হচ্ছে, বিভিন্ন রকম কম্পিটিশন হচ্ছে, কেরাত প্রতিযোগিতা হচ্ছে। এখন সেটা চোখে পড়ে না। আমরা চাচ্ছি বছরে মোটামুটি ১২ মাসের মধ্যে ১০ মাস বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখতে হয়।
তিনি বলেন, আপনি পড়ালেখাটাকে আমরা ইজি করে আনতে চাচ্ছি। আমি খুব সিরিয়াস স্টুডেন্ট কখনোই ছিলাম না। পড়ালেখাটাকে ইজি করতে চাই যাতে বাচ্চারা ইন্টারেস্ট। আপনি যখন ইন্টারেস্ট তৈরি করতে পারবেন তখন স্বাভাবিকভাবে অন্য জায়গাতে কিন্তু মাইন্ড টাইট হবে। তখন এগুলোতে ইন্টারেস্ট পাবে। এভাবে আমরা জিনিসটাকে সাজাতে চাই।
অনলাইনে হ্যারাজমেন্ট বিষয়ে তারেক কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নিজের ভাবনা তুলে ধরে বলেন, আরেকটা জিনিস যদি আমি বলতে পারি মানে অনলাইনে যে হ্যারাজমেন্ট হয় মানে মেয়েরা ছেলেরা সবাই হ্যারাজমেন্ট। তুমি হয়তবা বলেছিলে, এটা যে ডিজিটাল এডুকেশন যদি করা হয়…।
তিনি বলেন, আমাদের বোঝা উচিত সিস্টেম হ্যাকিং রিপোর্টিং কিভাবে হয়? রিপোর্টিং সিস্টেম হয়তবা করতে লাগবে, কমিউনিটি ডেস্ক যদি করা যায়, হয়তবা যদি এলাকায় কিছু ঘটে তাহলে ওখানে এলাকার মানুষরাই জিনিসটাকে ম্যানেজ করতে পারবে ওভাবে যদি লোকালি জিনিসটা ঠিক-ঠাক করা যায়, ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদেরকে শেখানো যায় যে, কোনটা সঠিক তাহলে ওই জিনিসটা অনেক কমে আসবে। সবকিছু একসঙ্গে করতে হবে।
মেয়ের এই ভাবনার কথা শুনে পরে তারেক রহমান বলেন, যেমন একটা জিনিস ইন্ট্রোডিউস যায় এটা আমাদের চিন্তায় আছে, এখন আমরা প্ল্যানের মধ্যে আনিনি, সেটা হচ্ছে আমাদের কাছে খুব খারাপ লেগেছে, আপনারাও দেখেছেন আমি সিওর আপনাদের কাছে খারাপ লেগেছে অনেক সময় আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, যেমন আমি কিছুদিন আগের একটা ঘটনা বাংলাদেশের কোন একটা জেলায় একটা কুকুরকে গাছে বেঁধে রেখে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা কিন্তু খুব একটা দুঃখজনক। একে তো অবলা জীবকে একে তো বেঁধে রেখেছে বেঁধে পিটাচ্ছে । এটা কেমনতর কথা।
তিনি বলেন, আমরা এটা চিন্তাভাবনা করছি, প্রাইমারি স্টেজে আছে। আমরা এটা প্রাইমারি লেভেল থেকে করবো, কোনটা ভালো হবে এটা চিন্তাভাবনা করে করতে হবে। নাকি আমরা সেকেন্ডারি লেভেল করব। সেটা হচ্ছে যে, যদি প্রাইমারি হয় তাহলে ক্লাস সিক্সে যদি সেকেন্ডারি হবে ক্লাস সেভেন। তিনজন চারজন বন্ধু বান্ধব মিলে একটা টিম হবে। তারা হয় একটা গরু বা একটা ছাগল বা একটা হাঁস, একটা মুরগি, একটা বিড়াল, একটা কুকুর যেটাই হোক একটা পাখি এটাকে পালবে এবং তারা ওটার উপরে তারা তাদের কি অভিজ্ঞতা হলো কিভাবে পালন করলো এটা একটা এক্সাম হবে। এই জিনিসটা ইন্টিডিউজ করা যায় কিনা?
ফেইসবুকের অফিস বাংলাদেশ আনা যায় কিনা সেটাও বিএনপির চিন্তায় আছে বলেও তরুণদের আড্ডায় জানান তারেক।
ঢাকার যানজট নিরসন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের তারেক রহমান বলেন, আমাদের ঢাকায় আপনার ধারণা আছে এখন কত মানুষ ঢাকায় থাকে? আমি লাস্ট যেটা শুনেছিলাম, তিন কোটি প্লাস মানুষ। এই ট্রাফিক জ্যাম হবার বেশ কয়েকটি কারণ আছে আমার প্রথমতঃ আপনার আমাদের রোড ডিজাইনিং, দ্বিতীয়তঃ আমাদের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম আর থার্ড হচ্ছে বেশ কতগুলো ফ্যাসিলিটি। ফ্যাসিলিটির মধ্যে এডুকেশন আছে, হেলথ আছে, সিকিউরিটি আছে, জব সিকিউরিটি আছে…এই সবকিছুই কম বেশি আপনার ঢাকা কেন্দ্রে গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগে সাত আট মাস আগে আপনার এক ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাপ করেছিলাম প্রফেশনাল উনি একজন আর্কিটেক্ট, উনার সঙ্গে আলাপ করেছিলাম। উনি ছাড়া আরেকজনের স্পেশালিস্ট আছেন উনি ট্রাফিক নিয়ে কাজ করেন তার সঙ্গে আলাপ করেছিলাম। প্রথমে আমি আর্কিটেক্ট এর সঙ্গে কি আলোচনা হয়েছিলো সেটা বলি। একটা চিন্তা আমার ছিল এবং কিছু কিছু দেশে আমরা দেখেছি, আমরা কোরিয়াতে দেখেছি, চায়নাতে দেখেছি। সেটা হচ্ছে, আপনি যদি ঢাকা থেকে রেলগাড়িতে, রেলগাড়ি স্পিড হবে এ্যাভারেজে ৬০/৭০ মাইল নট কিলোমিটার। আপনি এক ঘন্টায় কোথায় পৌঁছবেন, ইজিলি আপনি এক ঘন্টায় ময়মনসিংহে পৌছাতে পারবেন, ইজিলি এক ঘন্টায় মুন্সিগঞ্জ পৌছাতে পারবেন, মানিকগঞ্জ পৌছাতে পারবেন, টাঙ্গাইল পৌছাতে পারবেন।
তারেক বলেন, এখন এই যে কথা জেলার কথা বললাম এই জেলাগুলোতেও ছোট ছোট শহর আছে জেলা শহর আছে বা সদর শহর আছে আমরা এগুলোতে পরিকল্পনার মধ্যে আছে কিভাবে করব ডিটেল ওয়ার্কিং। আমাদের চিন্তা করতে আছে যে, এখানে আমরা ছোট ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে থাকব। এখন বলতে পারেন আপনারা এত জায়গা পাবেন কোথায়? আমরা যেটা করতে চাইছি, সেটা হচ্ছে যে নতুন জায়গা নেব না। যেই জায়গায় অলরেডি শহরটা আছে। এই জায়গাতেই আমরা জিনিসটা তৈরি করব। ওখানে বেসিক সাপোর্ট গুলো থাকবে। বেসিক সাপোর্টের মধ্যে স্কুল থাকবে ভালো, এডুকেশন থাকবে, চিকিৎসা সুবিধা থাকবে, গ্রোসারি মার্কেট থাকবে, সিকিউরিটি এনশিউর করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি এই সিটিগুলোকে ঘিরে স্যাটেলাইট টাউন বানাতে পারি তাহলে হবে কি? ওখানে ঘর খরচ যেহেতু কম হবে। ওখানে যদি যেহেতু স্কুল ফ্যাসিলিটি চিকিৎসার হেলথ ফ্যাসিলিটি এগুলো বিল্ড আপ করবো আমরা সিকিউর থাকবে। খরচ কম হলে তখন আমরা ধরে নিতে পারি যেটা আমরা দেখেছি অন্যান্য দেশে যারা করেছে তারা ওই জায়গায় চলে যাবে। তখন আপনি একটা বড় অংশকে এইভাবে বাইরে নিয়ে গেলেন তখন ঢাকার সমস্যাটা ট্রাফিক টাইম এটা কমে আসার পসিবিলিটি আছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ট্রাফিক স্পেশালাইজেশন তার সঙ্গে যে বিষয়টা আলাপ করছিলাম সেটা হচ্ছে যে আমরা কিভাবে কনজেকশনটা দেখব। ওনার যেটা বক্তব্য এখন তো ফ্লাইওভার দেখছি বা মেট্রো রেল দেখছি। মেট্রো রেলটা তুলনামূলক কস্টলি। ওনাদের বক্তব্য হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় আছে মালয়েশিয়াতে আছে, চায়নাতে আছে, জাপানে আছে সেটা হচ্ছে মনোরেল। মনোরেলটার যেটা সুবিধা উনারা আমাকে যেটা বলেছে মনোরেলটার যেটা সুবিধা মনোরেলটাকে যেকোনো জায়গায় বসিয়ে দিতে পারবেন… আবার উঠিয়েও দিতে পারবেন। মনোরেলটার সুবিধা মনোরেলটা ছোট ছোট বক্সের মতো দুইটা তিনটা বগি আপনি মোহাম্মদপুরের ভিতর থেকে ঘুরিয়ে ঘুরে নিয়ে এসে আপনি মেট্রোতে উঠেন তারা সেখানে কানেক্ট করতে পারবেন ওইভাবে যদি আমরা ঢাকা শহরটা কানেক্ট পারি, মনোরেলে খরচ কমে যাবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা ভালো হবে। যত সহজে বললাম ব্যাপারটা তত সহজ না। সময় লাগবে। কাজটা কঠিন। বাট নট ইমপসিবল। আমরা চেষ্টা করলে অবশ্যই হবে।
১০ বিজয়ীরা হলেন, তৌফিকুর রহমান, রাফায়েতুল আহমেদ রাবিত, শেখ রিফাত মাহমুদ, ফাতিমা আয়াত, মো. ইসরাফিল, শাজেদুর রহমান, শেখ মো.ইকরাতুল ইসলাম, যারিন নাজনীন, মো. রিফাত হাসান ও রমেসা আনজুম রোশমী। তারা বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জিজ্ঞাসা-চিন্তাভাবনাগুলো বলেন।
আড্ডায় তারেক রহমান তরুণদের কাছে জানান, আইনশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতি, এই দুইটা বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছি। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম একটা বিষয় এনশিউর করতে হবে, ল অ্যান্ড অর্ডার। অর্থাৎ মানুষ যেটা বলেছেন, আপনি যেটা বলেছেন যে, যাতে সবাই রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারি এটা ইনশিউর করতে হবে। আর করাপশন আমাদেরকে যেভাবেই হোক এটাকে এড্রেস করতে হবে। দুর্নীতিটাকে আমাদের…বিভিন্ন রকম দুর্নীতি আছে বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে এই দুটো জিনিসকে যদি আমরা একটু ভালো করে এড্রেস করতে পারি অন্য সমস্যাগুলো সমাধান অনেকাংশে সমাধান হয়ে আসবে। এটা হচ্ছে আমার প্ল্যান..।