চবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্যের মেয়েসহ সকল বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলসহ চার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।
ছাত্রদলের দাবিগুলো হলো, স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য তাদের পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন; অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। উপ-উপাচার্যের কন্যাসহ সকল বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ইউজিসির (UGC) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা নিয়োগ বোর্ড পরিচালনা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিভাগীয় সভাপতিদের আপত্তি ও পরিকল্পনা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দেওয়া সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হবে এবং স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রকৃত কোনো চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩০৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে সচল রাখা হয়েছে। গত দেড় বছরে মোট ৫৫৪ জনের এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া মূলত একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দল ভারী করার নগ্ন মহোৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিশাল নিয়োগ অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের দৃষ্টান্ত হলো — উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমকে ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান।
বিবৃতিতে ছাত্রদল বলেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী প্রশাসনের এই নগ্ন স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ-জালিয়াতি মূলত তাদের সুপ্ত ফ্যাসিবাদী চরিত্রের এক কুৎসিত ট্রেইলার মাত্র। এই স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আজ একটি বিদ্যাপীঠে যে পৈশাচিক লালসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের চাবিকাঠি কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা গোটা দেশকে স্বজনপ্রীতির এক অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করবে। প্রশাসনের এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ক্ষোভের দাবানল জ্বলছে, তখন শিবির-অধ্যুষিত চাকসু এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির-অধ্যুষিত ছাত্র সংসদগুলোর নির্লজ্জ নীরবতা প্রমাণ করে, এই নিয়োগ বাণিজ্যের সুবিধাভোগী হিসেবে তারাও জামায়াতপন্থী প্রশাসনের সঙ্গে নেপথ্যে সমঝোতায় লিপ্ত।