শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার © সংগৃহীত
পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে চলা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ফলপ্রসূ সমঝোতা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৈঠক শেষে সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান ও খোরশেদ মাহমুদ জানান, তাদের প্রধান দাবি ছিল রবিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেনাবাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। জেলা প্রশাসক ও সেনা ক্যাম্প কমান্ডার উভয়ই শিক্ষার্থীদের দাবিতে সম্মতি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আহত ২৩ শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘রবিবারের ঘটনার পর জেলায় একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমরা পৌঁছাতে পেরেছি। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহায়তা করবে।’
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে জেলা প্রশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এর প্রতিবাদে রাতেই শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আজ সোমবার রাতে সেই অচলাবস্থার অবসান হলো।