রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার পেছনে মব ভয় কাজ করছে: জাপা মহাসচিব

১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৩ PM , আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৬ PM
নির্বাচন কমিশন ভবনে কথা বলছেন জাপা মহাসচিব

নির্বাচন কমিশন ভবনে কথা বলছেন জাপা মহাসচিব © টিডিসি

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার পেছনে মব ভয় কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, মবতন্ত্র প্রশাসনকে প্রভাবিত করেছে। কেউ সামান্য সহায়তা করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ট্যাগিং করা হতো। এই ট্যাগিংয়ের ভয়েই প্রশাসন দৃঢ় ভূমিকা নিতে পারেনি।

আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচন করতে হলে প্রশাসনকে শক্ত হতে হবে, আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং মবকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। কিছু কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে আপিল ট্রাইব্যুনালে সংশোধিত হচ্ছে।

তিনি জানান, গতকাল জাতীয় পার্টির মোট ১৩ জন প্রার্থী আপিল করেছিলেন। এর মধ্যে সম্মানিত আপিল ট্রাইব্যুনাল ১১ জনের মনোনয়ন গ্রহণ করেছে। অন্য দুজনের আপিল নামঞ্জুর হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ পর্যন্ত আরও দুজনের আপিল শুনানি হয়েছে। তারা হলেন কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী সৈয়েদ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান ও বগুড়া-২ আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জিন্না। এই দুজনের আপিলও গৃহীত হয়েছে। আজ আরও চারটি আপিল শুনানি রয়েছে এবং আগামীকাল প্রায় ছয় থেকে সাতটি শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাপা মহাসচিব বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হলে প্রার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তুচ্ছ ও কারিগরি ভুলের কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডিসেম্বরের ১২ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ১৭ দিনের সময়কালে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। উসমান হাদির হত্যাকাণ্ড, দেশজুড়ে অস্থিরতা এবং তারেক জিয়ার দেশে প্রত্যাবর্তনের কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। ফলে অনেক প্রার্থী স্বাভাবিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, আগের নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রার্থীদের সহযোগিতা করতেন। কাগজপত্র জমার আগে ত্রুটি দেখিয়ে দিতেন, নামের বানান বা ভোটার নম্বরের ভুল সংশোধনের সুযোগ দিতেন এবং ঘাটতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের ব্যবস্থা নিতেন। এবার সেই সহযোগিতা দেখা যায়নি। বরং কারিগরি কারণে ব্যাপক হারে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী করেন, ২৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার পর অনেক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। অথচ ওই দিন রাত ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা সম্ভব ছিল। এমনকি একজন প্রার্থী কুয়াশার কারণে লঞ্চে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আপিল ট্রাইব্যুনাল আইনগতভাবে বিষয়গুলো যাচাই করে যেসব ভুল কারিগরি বা অ-গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেগুলো অনুমোদন দিয়েছে। এতে অনেক প্রার্থী পুনরায় নির্বাচনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে যদি রিটার্নিং কর্মকর্তারা শুরুতেই তাদের ক্ষমতা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতেন, তাহলে এত সংখ্যক আপিলের প্রয়োজন হতো না।

এ সময় বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখলের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, কিছু দুষ্কৃতকারী অফিস দখল করে সেখানে এনসিপির পক্ষে ব্যানার লাগিয়েছে। ওই ব্যানারটি বেগম খালেদা জিয়ার শোকবার্তার ব্যানারের ওপর লাগানো হয়। তিনি বলেন, কারা এটি করেছে তা জানা না গেলেও প্রশাসন এই দখল ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরে উল্টো জাতীয় পার্টির লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা জিডি করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলের অফিস দখলের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচন একটি বিশাল প্রক্রিয়া। সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজার কেন্দ্র, লক্ষাধিক কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত ঢাকা শহরের কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ। কোথাও ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধীরগতিতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন এবং প্রশাসনকে দৃঢ় না করলে মানহীন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, মানহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার ভবিষ্যতে বৈধতার সংকটে পড়বে। তাই এখনই রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। সব দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে এবং একে অপরকে স্পেস দিতে হবে। অতীতে ১৯৯১ ও ২০০৮ সালেও এ ধরনের সমঝোতা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় পার্টির শক্তি প্রসঙ্গে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দলটি বিভক্ত হলেও মূল অংশ জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং লাঙ্গল প্রতীক তাদের অধীনেই রয়েছে। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা ২৪৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আপিলের মাধ্যমে অনেক প্রার্থী ফিরে আসছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শেষ পর্যন্ত ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।

ভোটের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ভোটের মাঠ এখনো অত্যন্ত ফ্লুইড। সুষ্ঠু ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফল করতে পারে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি এবং ইসলামপন্থী ভোটারদের মধ্যেও দলটির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

জাপা মহাসচিব বলেন, এখনই বড় রাজনৈতিক দল, প্রধান উপদেষ্টা কিংবা নির্বাচন কমিশনের উচিত সব দলকে ডেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের সমঝোতা করা। নির্বাচন কমিশনের হাতে প্রশাসনিক রদবদল ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। এই ভূমিকা এখনই না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির (জাপা) আজকে ৬টি আপিল শুনানির মধ্যে ২টির শুনানি হয়েছে। বাকি ৪টির শুনানি দুপুরে খাবারের বিরতির পরে অনুষ্ঠিত হবে।

এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, রোগী দেখতেন দুই জেলায়
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
জাবিতে ৩য় ও ঢাবিতে ১৬তম: ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য তামীরুল মিল্…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
রাফিনিয়ার নৈপুণ্যে ক্লাসিকো জয় বার্সেলোনার
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
৫৬ বছরে, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রতিবাদের জ্ঞানভূমি জাহাঙ্গীরন…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
অনুমোদন পেল মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ১৫৮ কোটি টাকার একাডেমিক …
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
‘ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহত পাঁচ শতাধিক’
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9