কনুই দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা পিছু ছাড়ছে না বিএনপি নেতাদের © টিডিসি সম্পাদিত
কনুই দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা পিছু ছাড়ছে না বিএনপি নেতাদের। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ফের কনুইকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ও কনুইমারা ঘটনা ঘটান ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলেও থামছে না বিএনপি নেতাদের কনুইমারার ঘটনা।
ফের কনুইমারার এ ঘটনা ঘটলে মুহুর্তের মধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে নানা সমালোচনা করছেন নেটিজনরা।
শুধু এ দুটি ঘটনা নয়। এর আগে গেল বছরের ২ নভেম্বর কনুই দিয়ে ধাক্কা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। ওইদিন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক অনুষ্ঠানের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গাড়িতে ওঠার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিনিয়র সাংবাদিক ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোদাব্বের হোসেনকে কনুই দিয়ে সজোরে ধাক্কা মারেন তিনি। পরে এ ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
আরও পড়ুন : বগুড়ায় অবৈধ হলেও ঢাকায় বৈধ মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন
জানা গেছে, আজ সকালে বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ফুল দিতে যান জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ অন্যান্য নেত্রীরা। এ অুনষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, মহিলা দলের সাবেক নেত্রী ও সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরি মনিও ছিলেন।
শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দেওয়ার জন্য রিজভী আহমেদ ও আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে মাজার বেদীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় নেত্রীদের মধ্যে লাগে প্রচণ্ড ঠেলাঠেলী ও ধাক্কাধাক্কী। নেত্রীদের ঠেলাঠেলী ও ধাক্কাধাক্কীর কারণে রিজভী ও আফরোজা বেদীর দিকে যেতে পারছিলেন না। এ সময় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ তার ডান পাশে থাকা নিলোফার চৌধুরি মনির বুকে ডান হাতের কনুই দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করেন। সুলতানার কনুইয়ের আঘাত খাওয়ার পর নিলোফারকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় ভিডিওতে। এসময় রিজভী আহমেদকে মুচকি হাসতে দেখা যায়।
এদিকে গত ২২ ডিসেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি হয় এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাকালে একজনকে কনুইমেরে সামনে আসেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এই ভিডিওটিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে ওইদিন রাতেই বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইশরাক লেখেন, ‘নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নেতা-কর্মীদের ব্যাপক জনসমাগম ছিল। প্রোটোকল অনুসারে অতিথিদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা আহ্বায়ক হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল। সিরিয়াল ঠিক করার সময় আমাকে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিতে হয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কেউ মনঃকষ্ট পেয়ে থাকলে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক আরও বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ সংগঠনটির ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। একদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরা, অন্যদিকে যারা আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মনে-প্রাণে স্বীকার করেনি, তাদের আস্ফালন রুখে দেওয়া। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কালের পরিক্রমায় সত্য প্রকাশিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।’
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করতে গিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো এবং প্রোটোকল বজায় রাখা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজনকে ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন ইশরাক হোসেন। ঠেলাঠেলি করে শেষ পর্যন্ত তিনি সামনে রুহুল কবির রিজভীর পাশে গিয়ে দাঁড়ান।