জোনায়েদ সাকি © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির তুলনায় তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ আড়াই গুণেরও বেশি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামায় জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেছেন, তার পেশা ‘প্রকাশক’। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০২ টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার পেশায় শিক্ষক ও আলোকচিত্রী। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৪ টাকা।
হলফনামার তথ্যমতে, জোনায়েদ সাকির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় ১ লাখ ২০ হাজার ১৪১ টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২ হাজার ৭৯৫ টাকা এবং পেশা থেকে ৬ লাখ ৫০ টাকা।
তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের বার্ষিক আয় ২৩ লাখ ৯ হাজার ২১১ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া বাবদ আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৬৯ টাকা, অন্যান্য পেশা থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা আয় দেখানো হয়েছে।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে জোনায়েদ সাকির নামে ১১ একর অকৃষি জমির তথ্য রয়েছে, তবে এর মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া বেস্টওয়ে নেশনওয়াইড হাউজিং লিমিটেডে তিনি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিয়েছেন।
তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ কৃষিজমি, যার মূল্য ১৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি ৩ হাজার ২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও ১৬৭ বর্গফুটের একটি দোকান রয়েছে, যার মোট মূল্য ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৪ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, জোনায়েদ সাকি আয়কর দিয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৪০ টাকা এবং তার স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৮ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, জোনায়েদ সাকির জন্ম ১৯৭৩ সালের ৯ ডিসেম্বর। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের চরলহনিয়া গ্রাম। তিনি স্নাতক পাস এবং কখনো কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।