বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

প্রধান উপদেষ্টার সরকারি সফরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা কেন সঙ্গী

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৭ PM
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস © সংগৃহীত

তিনটি রাজনৈতিক দলের চারজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি এই সফরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দোসরা অক্টোবর দেশে ফেরার আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। এ ছাড়া সাক্ষাৎকার দিতে পারেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও।

কিন্তু এই সফরে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী, সেখানে কী ভূমিকা রাখবেন তারা, আর কেনই বা নির্দিষ্ট তিনটি দলের প্রতিনিধিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে–– এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনে রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে–– আন্তর্জাতিক মহলে এমন বার্তা দিতে চায় সরকার। আর এ কারণেই এই সফরে যুক্ত হচ্ছেন তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যেহেতু রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকবে, এ কারণেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা আলোচনায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট তিনটি দল থেকে প্রতিনিধি নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত, নির্বাচনের আগে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে কি না, উঠেছে এমন প্রশ্নও।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ অবশ্য বলছেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলীয় প্রভাব এবং দলীয় সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রতিনিধি ঠিক করা হয়েছে।অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রশ্নে একটি ঐক্য তৈরি হয়েছে। তবে এমন সব আলোচনার বাইরে সরকারের দিক থেকে রাজনৈতিক দায় বণ্টনের একটি চেষ্টাও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

রাজনৈতিক নেতারা কেন সফরসঙ্গী?
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরের প্রতিনিধি দলে অংশ নিচ্ছেন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, প্রতিনিধি দলে অংশ নেবেন–– বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

জানা গেছে, এই সফরের বেশ কিছু সাইডলাইন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অংশ নেবেন এই রাজনৈতিক নেতারাও। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গেও একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সঙ্গে আছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে–– আন্তর্জাতিক মহলে এমন বার্তা দিতেই প্রধান উপদেষ্টার এই সফরে তাদেরকে যুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলছেন, ‘সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি কিছু সেশন আছে যেখানে আমাদের পার্টিসিপেশন আছে। এছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথেও একটা মিটিং আছে।’

রাজনৈতিক নেতাদের এই সফরে যুক্ত করার কারণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কিছু ধারণাও দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ।

তিনি বলেছিলেন, ‘যেহেতু আমরা একটি রূপান্তর পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছি এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের হাতে হস্তান্তর করা হবে, তাই তাদের প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

এ ছাড়া নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা হওয়ায়, শেষ কয়েক মাসের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত রাখতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা এসব কাজের ধারাবাহিকতার বিষয়ে অবগত থাকে।

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘জাতিসংঘের এই অধিবেশনে এমন অনেক কিছুই আলোচনা হবে যার একটা কন্টিনিউয়েশনের দরকার আছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেমিনার হয়েছিল সেখানেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল।

ফয়েজ আহম্মদ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু রাজনৈতিক দলের কাছেই ভবিষ্যতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে যুক্ত রাখতে চায় সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ অবশ্য মনে করেন, রাজনৈতিক ঐক্য সবার সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাবের যে বিষয়টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেখানেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে রাখতে চাইছেন প্রধান উপদেষ্টা।

‘সম্ভবত তিনি একাই এই ঝুঁকিটা নিতে চাচ্ছেন না। রাজনৈতিক দলকেও তিনি এই ঝুঁকির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, যাতে রাজনৈতিক দলের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো বিরোধিতা না আসে। সেটাও একটা লক্ষ্য থাকতে পারে,’ বলেন তিনি।

এ ছাড়া তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের সমাধানের পথ খুলতে পারে বলেও মনে করেন সাব্বির আহমেদ।

তিনি বলছেন, জাতিসংঘের মূল বৈঠকের সাইডলাইনে আরও অনেক কিছুই হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

এই তিন দলের প্রতিনিধিই কেন
দেশের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার ইস্যুতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় গত ছয় মাসে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যেখানে অন্তত ৩০টি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সংস্কার প্রশ্নে অনেক বিষয়ে একমত হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো একমত হতে পারেনি দলগুলো।

এমনকি, এসব আলোচনার মধ্যেই সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন বা পিআর এর দাবিতে মাঠের কর্মসূচিও শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী সহ সাতটি রাজনৈতিক দল, যার বিপরীত অবস্থান নিয়ে নানা মন্তব্য করেছি বিএনপি।

এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে কেন কেবল এই তিনটি দলকেই বেছে নিল সরকার?

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলছেন, ‘রাজনৈতিক মতে বা আদর্শে ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রশ্নে সব দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য আছে। আমরা মনে করি যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের মধ্য দিয়ে সকল রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে।’

এই সফরে কেবল তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকেই নেওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত, আর জুলাইয়ের সামনের সারিতে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এভাবেই হয়তো প্রতিনিধি বাছাই করা হয়েছে। উনি (প্রধান উপদেষ্টা) তো হিসেব করেই চলেন। মূল শক্তি যে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপি এর বাইরে উনি যাবেন কেন?’

‘যদি এদের (তিনটি রাজনৈতিক দলের) চিন্তাধারাকে ঠিক করা যায় তাহলে হয়তো উনি ভাবছেন, বাকিদেরটা এমনিই হয়ে যাবে ‘ বলেন ফয়েজ আহমেদ।

সিপাহী নিয়োগ দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আবেদন শেষ ২ এপ্রিল
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ে নিয়োগ দেবে বেলমন্ট গ্রুপ, কর্মস্থল…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
জবিতে শিক্ষক-কর্মচারী হেনস্থার ঘটনায় জকসুর নিন্দা
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন বরগুনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ডিপ্রেশন: বিদেশে উচ্চশিক্ষার ফাঁকে ছুটিতে এসে ঢামেকের সাবেক…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
যশোর শহরে নিবন্ধিত রিক্সা-ইজিবাইক ৪৫শ’, চলছে ২০ হাজার: অসহন…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence